প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>૧૨ . বৌ-ঠাকুরাণীর হাট . এখন কিছুদিনের জন্য মহিষী একপ্রকার নিশ্চিন্ত হইতে পারিলেন । ইতিপূর্বেই মহিষী বিভাকে বলিয়াছেন ও বাড়িতে রাষ্ট্র করিয়া দিয়াছেন যে বিভাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাইতে অনুরোধ করিয়া রামচন্দ্র রায় এক পত্র লিখিয়াছেন । বিভার মনে আর আহলাদ ধরে না । রামমোহনকে বিদায় করিয়া অবধি বিভার মনে আর এক মুহূর্বের জন্য স্বস্তি ছিল না। যখনি সে অবসব পাইত, তখনি ভাবিত “তিনি কি মনে করিতেছেন ? তিনি কি আমার অবস্থা ঠিক বুঝিতে পারিয়াছেন ? হয় ত তিনি রাগ করিয়াছেন ? তাহাকে বুঝাইয়া বলিলে তিনি আমাকে কি মাপ করিবেন ন ? হা জগদীশ্বর, বুঝাইয়া বলিব কবে ? কবে আবার দেখা হইবে ?” উলটিয়া পালটিয়া বিভা ক্রমাগত এই কথাই ভাবিত । দিবানিশি তাহার মনের মধ্যে একটা আশঙ্কা চাপিয়াছিল। মহিষীর কথা শুনিয়া বিভার কী অপরিসীম আনন্দ হইল, তাহার মন হইতে কী ভয়ানক একটা গুরুভার তৎক্ষণাং দূর হইয়া গেল। লজ্জাসরম দূর করিয়া হাসিয়া কাদিয়৷ সে তাহার মায়ের বুকে মুখ লুকাইয়াকতকক্ষণ চুপ করিয়া রহিল। তাহার মা কাদিতে লাগিলেন । বিভা যখন মনে করিল তাহার স্বামী তাহাকে ভুল বুঝেন নাই, তাহার মনের কথা ঠিক বুঝিয়াছেন—তখন তাহার চক্ষে সমস্ত জগৎ নন্দনকানন হইয়া উঠিল। তাহার স্বামীর হৃদয়কে কী প্রশস্ত বলিয়াই মনে হইল। তাহার স্বামীর ভালবাসার উপর কতখানি বিশ্বাস, কতখানি আস্থা জন্মিল! সে মনে করিল, তাহার স্বামীর ভালবাসা এ জগতে তাহার অটল আশ্রয়। সে যে এক বলিষ্ঠ মহাপুরুষের বিশাল স্কন্ধে তাহার ক্ষুদ্র স্বকুমার লতাটির মতো বাহু জড়াইয়া নিৰ্ভয়ে অসীম বিশ্বাসে নির্ভর কৰুে রহিয়াছে, সে নির্ভর হইতে কিছুতেই সে বিচ্ছিন্ন হইবে না বিভা প্রফুল্প হইয়া উঠিল। তাহার প্রাণ মেঘমুক্ত শরতের আকাশের মতো প্রসারিত, নিৰ্ম্মল হইয় গেল। সে এখন তাহার ভাই সমরাদিত্যের সঙ্গে ছেলেমামুষের মতোকত কী খেলা করে। ছোটমেহের মেয়েটর মতো