প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


›ዓ8 বৌ-ঠাকুরাণীর হাট “ম।” ঐ কথাতেই তাহার মা সমস্ত বুঝিতে পারিলেন, বিভাকে বুকে টানিয়া লইয়া কহিলেন, “কী বাছা!” বিভা কিয়ৎক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া অবশেষে কহিল, “মা, তুই আমাকে কবে পাঠাইবি মা !” বলিতে বলিতে বিভীর মুখ কান লাল হইয়া উঠিল। মা ঈষৎ হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন—“কোথায় পাঠাইব বিভু !” বিভ। মিনতিস্বরে কহিল— “বলো না মা ।” মহিষী কহিলেন, “আর কিছু দিন সৰুর করে বাছা । শীঘ্রই পাঠাইব ।” বলিতে বলিতে র্তাহার চক্ষে জল আসিল । ত্রয়স্ত্রিংশ পরিচ্ছেদ বহুদিনের পর উদয়াদিত্য রায়গড়ে আসিলেন, কিন্তু আগেকার মতো তেমন আনন্দ আর পাইলেন না। মনের মধ্যে একটা ভাবনা চাপিয়া ছিল, তাই কিছুই তেমন ভাল লাগিল না। তিনি ভাবিতেছিলেন, দাদা মহাশয় যে কাজ করিয়াছেন, তাহার যে কী হইবে তাহার ঠিকানা নাই, পিতা যে সহজে নিষ্কৃতি দিবেন এমন তে বোধ হয় না। আমার কী কুক্ষণেই জন্ম হইয়াছিল । তিনি বসন্তরায়ের কাছে গিয়া কহিলেন, "দাদা মহাশয়, আমি যাই, যশোহরে ফিরিয়া যাই।” প্রথম প্রথম বসন্তরায় গান গাহিয়া হাসিয়া এ কথা উড়াইয়া দিলেন ; তিনি গাঁহিলেন – আরকি আমি ছাড়ব তোরে! মন দিয়ে মন নাইবা পেলেম জোর করে রাখিব ধোরে । শূন্ত করে হৃদয়-পুরী প্রাণ যদি করিলে চুরি তুমিই তবে থাক সেথায় শূন্ত হৃদয় পূর্ণ কোরে । অবশেষে উদয়াদিত্য বার বার কহিলে পর বসন্তরায়ের মনে আঘাত