প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ᎼᎼ8 বৌ-ঠাকুরাণীর হাট t রামমোহনের ভাব দেখিয়া বিভা একেবারে মলিন হইয়। গিয কহিল —“কেন মোহন, আজ কেন যাইব না !” রামমোহন কহিল—“আজ সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছে—আজ থাক, মা।” ' বিভা নিতান্ত ভীত হইয়া কহিল, “সত্য কবিয়। বল মোহন, কী হইয়াছে ?” রামমোহন থাকিতে পারিল না। আত্মগোপন কর। তাহার অভ্যাস নাই! সেইখানেই সে বসিয়া পড়িল—কাদিয়া কহিল—“ম জননী, আজ তোমার রাজ্যে তোমার স্থান নাই—তোমার রাজবাটীতে তোমার গৃহ নাই। আজ মহারাজ বিবাহ করিতেছেন।” বিভার মুখ একেবারে পাণ্ডুবর্ণ হইয়া গেল। তাতার হাত পাহিম হইয়া গেল ! রামমোহন কহিতে লাগিল, “ম, যখন তোর এই অধম সন্তান তোকে ডাকিতে গিয়াছিল,তখন তুই কেন আঙ্গিলি নাম ? তখন তুই নিষ্ঠুর পাষাণী হইয়া আমাকে কেন ফিরাইয়। দিলি ম? মহারাজের কাছে আমার যে আর মুখ রহিল না ! বুক ফাটিষ গেল, তবু যে তোর হইয় একটি কথাও কহিতে পারিলাম না !” বিভ। আর চোখে কিছু দেখিতে পাইল না,—এমাথা ঘুরিয়া সেইখানে পড়িয়া গেল। রামমোহন তাড়াতাড়ি জল আনিয়া বিভার মুখে চোখে ছিটা দিল ! কিছুক্ষণ পরে বিভা উঠিয়া বসিল। এক আঘাতে বিভার সমস্ত জগৎ ভাঙিয়া গেছে। স্বামীর রাজ্যেব মধ্যে আসিয়া, রাজধানীর কাছে পৌছি, রাজপুরীর দুয়ারে আসিয়া তৃষাৰ্ব-হৃদয় বিভার সমস্ত সুখের আশা মরীচিকার মতো মিলাইয় গেল! ড়ি আকুল ভাবে কহিল—“মোহন, তিনি যে আমাকে ডাকাইয়। পাঠাইলেন—আমার আসিতে কি বড় বিলম্ব হইয়াছে ?” মোহন কহিল, “বিলম্ব হইয়াছে বৈকি !” ৰিতা অধীর হইয়া কহিল—“আর কি মার্জন করিবেন না ?”