প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Wo? বৌ-ঠাকুরাণীর হাট কহিলেন, বিভা কাছে থাকিলে ভাল হইত, মামাকে ভাল বিশ্বাস হইতেছে না। বিভ। উদয়াদিতোর কাছে একেবাবে কাদিয়া গিষা পড়িল, তাহাব মুখ দিব। আর কথা বাহিব হইল না । সুরম। তাহাকে উঠাইয় বসাইয জিজ্ঞাস করিল, “কী হইয়াছে, বিভা ?" বিভ। স্তরমাকে দুই হস্তে জড়াইয। ধবিয়। একটি কথা ও বলিতে পারিল না। উদয়াদিত্য সক্ষেতে বিভার মাথায় হাত দিয়| কহিলেন, “কেন, বিভা, কী হইযাছে ?” বিভ। তাহার ভ্রাতার দুই হাত ধবিয়া কহিল, "দাদ। তামাব সঙ্গে এসে, সমস্ত শুনিবে ।” তিন জনে মিলিয়া বিভার শষন-কক্ষেব দ্বারে গিয়া উপস্থিত হইলেন । সেখানে অন্ধকারে রামচন্দ্র বসিয়া, ও রমাপতি দাডাইয় আছেন । উদয়াদিত্য তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাস করিলেন “মাম, হইয়াছে কী ?” রমাপতি একে একে সমস্তটা কহিলেন। উদয়াদিতা তাহার আয়ত নেত্র বিস্ফারিত করিয়া সুরমার দিকে চাহিয়া কছিলেন “আমি এখনি পিতার কাছে যাই—র্তাহাকে কোনো মতেই আমি ও কাজ করিতে দিব না ! কোনো মতেই ন৷ ” স্বরমা কহিল, “তাহাতে কি কোনে ফল হইবে ? তাহার চেয়ে বরং একবার দাদা মহাশয়কে তাহার কাছে পাঠাও, যদি কিছু উপকার দেখে ।” যুবরাজ কহিলেন, “আচ্ছ।” , বসন্তরায় তখন অগাধ নিদ্র দিতেছিলেন। ঘুম ভাঙিয়াই উদয়|দিত্যকে দেখিয়া ভাবিলেন, বুঝি ভোর হইয়াছে। তৎক্ষণাৎ ললিতে একটা গান গাহিবার উপক্রম করিলেন,— , “কবরীতে ফুল শুকাল, কাননের ফুল ফুটুল বনে, ট্রিনের আলো প্রকাশিল, মনের সাধ রহিল মনে!”