প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* A v E . বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ఆళ్ళి উয়াদিত্য বলিলেন—“দাদা মহাশয়, বিপদ ঘটিয়াছে !” তৎক্ষণাৎ বসন্তরায়ের গান বন্ধ হইয়া গেল। ত্রস্তভাবে উঠিয়৷ উদয়াদিত্যের কাছে আসিয়া শশব্যস্তে জিজ্ঞাসা করিলেন—“অ্যা ! সে কী দাদা ! কী হইয়াছে ! কিসের বিপদ ” উদয়াদিত্য সমস্ত বলিলেন । বসন্তরায় শয্যায় বসিয়া পড়িলেন । উদয়াদিত্যের মুখের দিকে চাহিয়া ঘাড় নাড়িয়া কহিলেন—“ন, দাদা, না, এ কি কখনও হয় ? এ কি কখনো সম্ভব ?” .' উদয়াদিত্য কহিলেন, “আর সময় নাই, একবার পিতার কাছে যাও! বসন্তরায় উঠিলেন, চলিলেন, যাইতে যাইতে কতবার জিজ্ঞাসা । করিলেন, “দাদা, এ কি কখনো হয়, এ কি কখনো সম্ভব ?” প্রতাপাদিত্যের গৃহে প্রবেশ করিয়াই জিজ্ঞাসা করিলেন, “বাবা: প্রতাপ, একি কখনো সম্ভব ?” প্রতাপাদিত্য এখনও শয়নকক্ষে যান নাই, —তিনি র্তাহার মন্ত্ৰগৃহে বসিয়া আছেন। একবার এক মুহূৰ্ত্তের জন্ধে ; মনে হইয়াছিল লছমন সর্দারকে ফিরিয়৷ ডাকিবেন । কিন্তু সে সঙ্কল্প তৎক্ষণাৎ মন হইতে দূর হইয়া গেল। প্রতাপাদিত্য কখনও দুইবার আদেশ করেন ? যে মুখে আদেশ দেওয়া সেই মুখে আদেশ ফিরাইয়। লওয়া ? আদেশ লইয়া ছেলেখেলা করা তাহার কার্য্য নহে। কিন্তু বিভা ? বিভা বিধবা হইবে। রামচন্দ্র রায় যদি স্বেচ্ছাপূর্বক অগ্নিতে বাপ দিত, তাহা হইলেও ত বিভা বিধবা হইত—রামচন্দ্র রায় প্রতাপাদিত্য রায়ের রোষাগ্নিতে স্বেচ্ছাপূর্বক বাপ দিয়াছে, তাহার অনিবাৰ্য্য ফল স্বরূপ বিভা বিধবা হইবে । ইহাতে প্রতাপাদিত্যের কি হাত আছে! কিন্তু এত কথাও তাহার মনে হয় নাই। মাঝে মাঝে মুখনি সমস্ত ঘটনাটা উজ্জলন্ধপে তাহার মনে জাগিয়া উঠিতেছে, তখনি * তিনি কেবারে অধীর হইয়া উঠিতেছেন, ভাবিতেছেন, রাত কখন পোহাইবে ? ঠিক এমন সময়ে বৃদ্ধ বসন্তরায় ব্যস্তসমস্ত হইয়া গৃহে প্রবেশ