প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:ভারতীয় সাধক - শরৎকুমার রায়.pdf/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


38 ভারতীয় সাধক করিবার জন্য চুটাছুটির, অসাধ্য-সাধনের কোনো দরকার নাই, . এই কথাই তিনি বারংবার বলিয়াছেন । এই নিরকঙ্কার, প্রেমিকেৰ সাধুতা বালবৃদ্ধ নরনারী সকলকেই মুগ্ধ করিয়াছিল। তঁহার ধৰ্ম্মমতের উদারতা না খুঝিয়াও দলে দলে লোক মধুর ধৰ্ম্মোপদেশ শুনিবার জন্য তাঙ্গাব চরণপ্রান্তে সম্মিলিত হইত। ভক্ত কবারের হৃদয় পদ্মের দিব্যসৌরভে কাশীবাসী সকলে বিমোহিত হহ’ল। উচ্চনীচ ধনী দরিদ্র হিন্দুমুসলমান প্ৰত্যেকেই এই মুসলমান জেলার চরণরেণু অঙ্গে মাখিয়া আপনাকে পবিত্ৰ জ্ঞান করিত। তাহার বিনয়মণ্ডিত সবল ব্যবস্তাব ও অপূর্ব প্ৰাণস্পশী ধৰ্ম্মপ্রসঙ্গ সকলের চিত্ত আকুর্ষণ করিত। কবীরের এটি সম্মান জাতভিমানী এক দল ব্ৰাহ্মণের সহ্য হইল না। "ঠাইবা এই সাধুকে অপদস্ত করিবার নিমিত্ত চেষ্টা করিতে লাগিলেন ; ব্রাহ্মণদল এক পতিতা নারীকে অর্থদ্বারা' বশীভুত করিয়া কবীরেব নিকটে পাঠাইলেন। ঐ মুখবা নারী প্ৰকাশ্য হাঁটের মাঝখানে আপনাকে কবীরের অনুগত বলিয়া ব্যক্ত কবিল। কবীর শত্রুবৃহের মাঝখানে দাড়াইয়া সেই পতিতাকে ভগবানের দান বলিয়া স্বীকার করিয়া লইলেন। কিয়াৎকালের জন্য চতুর্দিকে তাঁহার নিন্দ প্ৰকাশিত হইয়া পড়িল । সাধারণ লোকদের কেন্স কেহ তাতাকে ভণ্ড মনে করিয়া ত্যাগ করিল। বটে, কিন্তু তাহার। প্ৰাণেশ্বর তাহার নিকটে আরও ঘনিষ্ঠতর হইলেন। সাধুর পুণ্যসঙ্গে পতিত নারীর দিব্যদৃষ্টি খুণিয়া গেল এবং অত্যন্ত্রকালীমধ্যেই কুচক্রীদের সকল চাতুরী ব্যর্থ হইল । কবীবের অভু্যদয়িকালে সিকান্দর সাহ লোদী দিল্লীর সম্রাটু ছিলেন। গোড়া হিন্দু ও মুসলমানগণ সম্রাটের নিকট তাহাব বিরুদ্ধে এইরূপ অভিযোগ উপস্থাপন কবিয়াছিল যে, কবীর কাশীবাসী চিন্দ্র ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকদিগকে কুপথগামী করিতেছেন ।