পাতা:ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৭

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।

 যে দিবস প্রাতে হানিফ খাঁকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলান হয়, সেই দিবস বৈকালে তাহার মৃতদেহ ফাঁসি-রজ্জু হইতে নমাইবার জন্য যখন জেলের একজন প্রধান কর্ম্মচারী সেইস্থানে গমন করিয়া, ঐ ফাঁসি-মঞ্চের ভিতর প্রবেশ করেন, সেই সময় দেখিতে পান যে, উহার মধ্যে কেবল মাত্র ফাঁসি-রজ্জু ঝুলিতেছে, হানিফ খাঁর মৃতদেহ আদৌ নাই। ইহা দেখিয়া প্রথমতঃ তিনি অতিশয় আশ্চর্য্যান্বিত হন, কিন্তু পরক্ষণেই মনে করেন, হয়তো অপর কোন কর্ম্মচারী ঐ মৃতদেহ নামাইয়া লইয়া, সৎকারের নিমিত্ত প্রেরণ করিয়াছেন। যদি অপর কোন কর্ম্মচারীর দ্বারা ঐ কার্য্য হইয়া থাকে, তাহা হইলেও উহা নিতান্ত অন্যায় কার্য্য হইয়াছে; কারণ তাঁহার আদেশ ব্যতীত ঐ মৃতদেহ ফাঁসি-রজ্জু হইতে অবতরণ করান কাহারও ক্ষমতা নাই। মনে মনে এইরূপ ভাবিয়া ঐ ফাঁসি-মঞ্চের উপর যে প্রহরীর সেই সময় পাহারা ছিল, তাহাকে ডাকাইলেন ও জিজ্ঞাসা করিয়া জানিতে পারিলেন যে, তাহার পাহারাকালীন কোন ব্যক্তি উহার ভিতর প্রবেশ করে নাই, বা মৃতদেহ কেহই বাহির করিয়া লইয়া যায় নাই।

 তাহার নিকট এই অবস্থা অবগত হইয়া তিনি, ঐ প্রহরীর পূর্ব্বে যাহার পাহারা ছিল, তাহাকে ডাকাইলেন। সেও ঐরূপ কহিল। তাহার পূর্ব্ববর্ত্তী প্রহরীও সেইরূপ বলিল। ক্রমে জেলের সকল কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। জেলের মধ্যে মহা হুলস্থূল পড়িয়া গেল, সকলেই ঐ মৃতদেহের অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু কেহই ঐ মৃতদেহ বা তাহার কোনরূপ সন্ধান প্রাপ্ত হইলেন না।

 এই অবস্থা হইতেই ক্রমে এই কথা রাষ্ট্র হইয়া পড়িল যে, হানিফ খাঁর মৃত্যুর পর সে ভূতযোনী প্রাপ্ত হইয়াছে ও আপন শরীর লইয়া সেই স্থান হইতে কোথায় প্রস্থান করিয়াছে।

 অশিক্ষিত লোকগণ ক্রমে এই কথা বিশ্বাস করিয়া সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল, আর যাহারা শিক্ষিত বা যাহারা ভূত মানেন না, সেই সকল কর্ম্মচারীগণ, হানিফ খাঁর মৃতদেহের বিশেষরূপ অনুসন্ধান করিলেন, কিন্তু কোন স্থানেই তাহার কোনরূপ সন্ধান প্রাপ্ত হইলেন না।

 জেলের প্রধান কর্ম্মচারী এই সংবাদ স্থানীয় পুলিসের প্রধান কর্ম্মচারীর নিকট প্রেরণ করিলেন। তিনিও স্বদলে সেইস্থানে উপস্থিত হইয়া হানিফ খাঁর মৃতদেহ বাহির করিবার নিমিত্ত বিধিমতে চেষ্টা করিলেন, কিন্তু কোনরূপেই কৃতকার্য্য হইতে পারিলেন না। এইরূপে ক্রমে দিনের পর দিন অতিবাহিত হইতে লাগিল।