পাতা:ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৯

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ।

 এই ঘটনার পর ঐ গ্রামে এক এক করিয়া আরও তিন চারিটী ডাকাইতি হইয়া গেল; কিন্তু ঐ সকল মকর্দ্দমায় হানিফ খাঁর নাম উল্লেখ হইল না বা হানিফ খাঁর ভূতকে যে আর কেহ দেখিয়াছে, এ কথাও কেহ বলিল না।

 পুলিস নিয়মিতরূপে এই সকল ঘটনার অনুসন্ধান করিলেন, কিন্তু ইহার একটীরও কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।

 এইরূপে আরও কিছু দিবস অতিবাহিত হইয়া গেল। ঐ গ্রামের লোক-জন ক্রমে ক্রমে হানিফ খাঁকে বা তাহার ভূতকে ভুলিয়া যাইতে লাগিল।

 হানিফ খাঁর মৃতদেহ পুনঃ প্রাপ্ত হইবার আশায় জেলের ও পুলিসের কর্ম্মচারীগণ অনেক অনুসন্ধান করিয়াছিলেন এবং বিশেষ পারিতোষিক প্রদত্ত হইবে এরূপও ঘোষিত হইয়াছিল, কিন্তু কোনরূপেই ঐ মৃতদেহের কোনরূপ সন্ধান হয় নাই।

 এইরূপে আরও কিছু দিবস অতিবাহিত হইয়া যাইবার পর, সেই জেলার প্রধান পুলিস কর্ম্মচারী একখানি পত্র পাইলেন। যে জজ সাহেব হানিফ খাঁর মকর্দ্দমার চূড়ান্ত বিচার করিয়া তাহাকে প্রাণদণ্ডের আদেশ প্রদান করিয়াছিলেন, ঐ পত্রখানি তাঁহারই লিখিত। ইহার সার মর্ম্ম এই।—

 “গত রাত্রে আমার বাড়ীতে একটী ভয়ানক ঘটনা ঘটিয়াছে। রাত্রিকালে আমি আমার ঘরে একাকী শয়ন করিয়াছিলাম, নিকটেই একটী আলো অল্প অল্প জ্বলিতেছিল, সেই সময় হঠাৎ আমার নিদ্রা ভঙ্গ হয়, আমি চক্ষু উন্মীলন করিয়া দেখি, দুই জন লোক আমার ঘরে প্রবেশ করিতেছে, তাহাদিগের মধ্যে যে অগ্রে ছিল, তাহাকে দেখিবা মাত্রই আমি চিনিতে পারি, সে হানিফ খাঁ। তাহার হস্তে একখানি তরবারি ছিল, সে আমাকে হত্যা করিবার মানসেই যে আমার ঘরে প্রবেশ করিয়াছিল, তাহাতে আর কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। এই অবস্থা দেখিয়াই আমার মনে অতিশয় ভয় হইল, আমি নিমেষ মধ্যে আলোটী নিভাইয়া দিয়া একেবারে ঘরটী অন্ধকার করিয়া ফেলিলাম ও আমার পালঙ্কের অপর পার্শ্ব দিয়া অবতরণ পূর্ব্বক পালঙ্কের নিম্ন দিয়া ক্রমে গোছলখানায় উপস্থিত হইলাম ও উহার মধ্য দিয়া অন্ধকারে আপন দেহ লুকাইয়া বাগানের ভিতর প্রবেশ করিলাম। ক্রমে উহার এক প্রান্তে গমন করিয়া কতকগুলি লতা-পাতার মধ্যে লুকাইয়া রহিলাম। আমি ঘর হইতে বহির্গত হইবার পরই আর এক ব্যক্তি মশাল হস্তে ঐ ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়াছিল ও উহারা আমার অনুসন্ধানও করিয়াছিল, কিন্তু আমাকে না পাইয়া উহারা ও উহাদিগের অনুচর যাহারা বাহিরে ছিল, তাহারা আমার গৃহস্থিত-দ্রব্যাদি লুণ্ঠন করে। সেই সময় আমার পরিবারবর্গ ঘরে না থাকায় অলঙ্কার-পত্র ও বহুমূল্য