পাতা:মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

মতিয়া বিবি।

২৩

 অপহৃত অলঙ্কার কয়েকখানির অনুসন্ধান করিতে লাগিলাম সত্য; কিন্ত কোন স্থানে তাহার কোনরূপ সন্ধান করিয়া উঠিতে পারিলাম না। অলঙ্কারের অনুসন্ধান ব্যতীত আরও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যে সকল বিষয় আমাদিগের কর্ণগোচর হইতে লাগিল, তাহারও আনুপূর্ব্বিক অনুসন্ধান সঙ্গে সঙ্গে শেষ করিতে লাগিলাম, কিন্তু আসল মোকর্দ্দমা সম্বন্ধীয় কোন কথাই কোনরূপ প্রাপ্ত হইলাম না। এইরূপে ক্রমে ক্রমে দিন অতিবাহিত হইতে লাগিল।

 যে স্থানে তারামণি বাস করিত, তাহার অনতিদূরে একটা বাগান আছে, ঐ বাগানের ভিতর ঘাঁটবাধান একটা পুষ্করিণীও আছে। ঐ পুষ্করিণীর জল অনেকটা ভাল বলিয়া নিকটবর্ত্তী দরিদ্র লোকজন ঐ পুষ্করিণীর জলই প্রায় ব্যবহার করিয়া থাকে। এক দিবস আমি ঐ পুষ্করিণীর বাঁধাঘাটের এক পার্শ্বে বসিয়া রহিয়াছি, সন্ধ্যাকালীন তিমিরে আমাকে প্রায় আবৃত করিয়া সেই স্থানে লুক্কায়িত ভাবে রাখিয়াছে, এইরূপ সময়ে দুইটী কলসী কক্ষে দুইটী স্ত্রীলোক জল লইবার মানসে আস্তে আস্তে ঐ পুষ্করিণীতে অবতরণ করিল। উহাদিগের মধ্যে একটী স্ত্রীলোক অপর স্ত্রীলোকটীকে কহিল, “ভাই! সে পয়সা কয়টা দিলি নে?”

 ২য় স্ত্রীলোক। না ভাই, এখন পর্য্যন্ত যোগাড় করিয়া উঠিতে পারি নাই। যেমন হাতে হইবে, অমনি দিব, চাইতে হইবে না।

 ১ম স্ত্রীলোক। ইহার আগেও তো বলিয়াছিলে যে, দুই এক দিবসের মধ্যেই তুমি কোথায় পয়সা পাইবে, ও উহা পাইবামাত্রই আমার দেনা মিটাইয়া দিবে।