প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:ময়ূখ - রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়.djvu/৮০

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।


একাদশ পরিচ্ছেদ

বিনোদিনী বৈষ্ণবী

 হুগলী দুর্গের পার্শ্বে গোময়লিপ্ত একখানি ক্ষুদ্র সুন্দর কুটীর ছিল, তাহাতে প্রায় বিগতযৌবনা এক বৈষ্ণবী বাস করিত। বৈষ্ণবী যৌবনে সুন্দরী ছিল, সে সৌন্দর্য্য সে এখনও বাঁধিয়া রাখিবার চেষ্টা করে। লোকে বলিত সে বৈষ্ণবী ব্রাহ্মণের কন্যা, ফিরিঙ্গিরা তাহাকে দূরদেশ হইতে ধরিয়া আনিয়াছিল। একজন ফিরিঙ্গি সেনানায়ক তাহার যৌবনলাবণ্যে মুগ্ধ হইয় তাহাকে স্বীয় অঙ্কশায়িনী করিয়াছিলেন। ফিরিঙ্গি স্বদেশে প্রত্যাবর্ত্তন করিলে, সে দুর্গের বাহিরে আসিয়া বাস করিয়াছিল। তাহার যৌবন গতপ্রায় হইলেও, হুগলীর ফিরিঙ্গি মহলে তাহার যথেষ্ট পসার ছিল; সেইজন্য হুগলীর হিন্দুজাতীয় আবালবৃদ্ধবনিতা তাহাকে যমের ন্যায় ভয় করিত। লোকে বলিত যে বিনোদিনী বৈষ্ণবী হুগলী কেল্লার বাহিরে ফিরিঙ্গি কেল্লার ফৌজ্‌দার।

 প্রভাতে বৈষ্ণবী তাহার গৃহের অঙ্গনে তুলসীমঞ্চের সম্মুখে বসিয়া জপ করিতেছিল; তাহার চারিদিকে তিন চারিটি বিড়াল বসিয়াছিল; কুটীরদ্বারে একটা বিলাতী কুকুর নিজগাত্র লেহন করিতেছিল। এমন সময়ে শিশিরস্নাত মল্লিকার ন্যায় একটি সুন্দরী যুবতী স্নান করিয়া আর্দ্রবস্ত্রে গৃহে প্রবেশ করিল।