পাতা:মীরকাসিম - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


òb” भैद्र कiनिभ করিতে প্ৰবৃত্ত হইলেন। র্তাহার অনুগ্রহে গাজি উদ্দীন খা “মীর-বকসী” হইলেন। প্ৰকৃত পক্ষে দিল্লীশ্বরের সমস্ত শাসনক্ষমতাই ক্ৰমে ক্ৰমে অযোধ্যার উজীর-সাহেবের করতলগত হইল ; বাদশাহ তঁহার হস্তের ক্রীড়া-পুত্তলে পরিণত হইলেন। অন্যান্য আমীর। ওমরাহ ইহাতে অতিমাত্রায় অসন্তুষ্ট হইয়া বাদশাহের নিকট নানারূপ অভিযোগ উপস্থিত করিতে ক্ৰটি করিলেন না। উজীরসাহেবও বাদশাহকে দন্ত্র্য তস্করের ন্যায় নিরন্তর প্রহরী-বেষ্টিত করিয়া তঁহার সহিত শক্রি-পক্ষের আলাপ পরিচয় সংঘটিত হইবার পথ রোধ করিতে প্ৰবৃত্ত হইলেন। প্ৰধান প্ৰধান রাজকৰ্ম্মচারী উজীর-সাহেবের দাসানুদাস ; স্বয়ং সেনাপতি পৰ্য্যন্ত তঁহারই অনুগত অন্তরঙ্গ । এরূপ অবস্থায় বাদশাহ মুখের কথায় উজীর-সাহেবকে পদচ্যুত করিবার আশা করিতে পারেন না । তিনি আত্মত্ৰমের পরিণাম-চিন্তায় ব্যাকুল হইয়া গুপ্ত মন্ত্রণায় মুক্তিলাভের আশায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইলেন। মোগলসাম্রাজ্যের অধঃপতনদিনে এইরূপে প্ৰবল গৃহ-কলহের সুত্রপাত হইল। মোগল-সাম্রাজ্যে শাসন-কৌশল অপেক্ষা সেনা-বলের উপরেই অধিক আস্থা ছিল । নিয়ত সেনাবলে প্ৰজা-শাসন করা সহজ নহে । সময় ও সুযোগ প্ৰাপ্ত হইলেই প্ৰজাবৰ্গ যে কোন প্ৰবল পুরুষের উত্তেজনায় বাদশাহের শাসন-ক্ষমতা অস্বীকার করিয়া অভিনব নবাবের পক্ষভুক্ত হইত। উজীর সাহেব এইরূপে অযোধ্যা প্রদেশে স্বাধীন রাজ্য সংস্থাপিত করিয়াছিলেন । সুতরাং ধনবল ও সেনাবল উভয় বলে বলীয়ান হইয়া, উজীর-সাহেব দিল্লীর নাম-সর্বস্ব মোগল-সম্রাটু অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হইয়া উঠিয়াছিলেন। তিনি সহজে ছাড়িবার পাত্ৰ ছিলেন না ; বাহুবলে সকল ষড়যন্ত্র চুর্ণ করিবার জন্য অচিরে যুদ্ধ ঘোষণা করিলেন। এই যুদ্ধে মোগলের শাসন-গৌরব একেবারে তিরোহিত হইয়া গেল ।