পাতা:মীরকাসিম - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


0 মীর কাসিম এইরূপে নিতান্ত অরাজক অবস্থায় পতিত হইয়া, বাহুবলে মোগলশাসন পুনঃ সংস্থাপিত করিবার উপায় আবিষ্কার করিতে না পারিয়া, পাত্ৰমিত্ৰগণ আহম্মদ শাহ আবদালীকে পুনরায় ভারতবর্ষে উপনীত হইবার জন্য আহবান করিতে প্ৰস্তুত হইলেন । স্বয়ং দিল্লীশ্বর পৰ্যন্ত তাহাতে যোগদান করিলেন। মহিমান মোলকের অভাবে তাহার বেগম লাহোরের শাসনভার গ্রহণ করিয়াছিলেন। বৃহদ্বারে রমণী, বৃহাভ্যন্তরে গৃহকলঙ্ক ;-আহম্মদ শাহ আবদালী ভারতবর্ষের এইরূপ অসঙ্গায় অবস্থার সন্ধানলাভ করিয়া, ভারতবর্ষ আক্রমণ করিতে অসন্মত হইলেন না। বেগম বীর রমণীর ন্যায় প্ৰাণপণে আত্মরক্ষার চেষ্টা করিয়াও আবদালীর গতিরোধ করিতে পারিলেন না । তিনি দিল্লী অধিকার করিয়া, গাজি উদ্দীনকে পদচ্যুত করিলেন। দিল্লীশ্বর আপযুক্ত হইয়া ইচ্ছামত উজীর নিয়োগের ক্ষমতা লাভ করিলেন । আবদালী জাঠি-রাজ্য আক্রমণ করিবার জন্য সসৈন্যে ধাবিত হইলেন। বাদশাহ আপন পুত্র আলি গহরকে উজীরপদে নিযুক্ত করিলেন। আবদালীর পক্ষে জাঠি-রাজ্য জয় করা সহজ হইল না ; তিনি পদেপদে বিপৰ্য্যস্ত হইয়া, কিংকৰ্ত্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িলেন। সুযোগ বুঝিয়া পদবিচ্যুত গজি উদ্দীন তঁহাকে প্ৰলুব্ধ করিতে ক্রটি করিলেন না। গাজি উদ্দীনকে পুনরায় উজীরপদে নিযুক্ত করিলে, তিনি জাঠি-রাজ্য জয় করিবার সহায়তা করিবেন-এইরূপ আভাস প্ৰাপ্ত হইয়া, আবদালী সন্মতি জ্ঞাপন করিবামাত্র, গাজি উদ্দীন জাঠযুদ্ধে অগ্রসর হইয়া জয়লাভ করিলেন। দিলীশ্বর তৎকালে আবদালীর গোলাম। আবদালীর আদেশে গাজি উদ্দীনকে আবার উজীরপদে নিযুক্ত করিতে হইল। শাহজাদা আলি গহর প্রাণ লইয়া পলায়ন কষ্টিলেন ।