পাতা:মীরকাসিম - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


दमिश्व °tिbछा OS মোগল-সাম্রাজ্যের ধ্বংস-দশায় পিতৃসিংহাসন আপযুক্ত করিবার আশায় শাহজাদা আলি গহর মহারাষ্ট্র সেনার শরণাগত হইলেন । দিল্লীশ্বরের জ্যেষ্ঠ পুত্র এইরূপে দিল্লীশ্বরের প্রধান শত্রুর সহায়তা ভিক্ষার্থ মহারাষ্ট্র-শিবিরে আশ্রয় গ্ৰহণ করায় মোগল-শাসনের ছায়া পৰ্য্যন্তও অন্তৰ্হিত হইবার উপক্রম হইল। এই সময় হইতে আলি গহর ভারতবর্ষের ইতিহাসে পরিচিত হইলেন। সে ইতিহাসে তিনি কখন শাহজাদা কখন বা শাহ আলম নামে সুপরিচিত । মীর কাসিম যখন বঙ্গ-বিহার-উড়িষ্যায় মোগল-শাসন সুসংস্থাপিত করিবার জন্য প্ৰাণপণে চেষ্টা করিতে প্ৰবৃত্ত হইয়াছিলেন, শাহজাদা শাহ আলম সেই সময়ে দিল্লীর সিংহাসনকে পূৰ্বগৌরবে প্রতিষ্ঠিত করি।-- বার আশায় কখন মহারাষ্ট্র সেনার, কখন অযোধ্যার উজীরের, কখন বা ইংরাজ বণিকের সহায়তা ভিক্ষা করিবার জন্য ব্যতিব্যস্ত হইয়া উঠিয়াছিলেন। এক সময়ে মোগল বাদশাহের প্রবল প্ৰতাপে ভারতবর্ষের জল-স্থল কম্পিত হইয়া উঠিয়াছিল। এখন মোগল বাদশাহের দুর্দশার দিনে সকলেই স্বেচ্ছাচারী হইয়া স্বার্থরক্ষার্থ লালায়িত হইতে লাগিল । শাহজাদাকে হাতে রাখিতে পারিলে, “তঁহার নামের দোহাই দিয়া স্বার্থরক্ষা করা সহজ হইতে পারে-এই আশায় অনেকেই শাহজাদার সহায়তা সাধনের জন্য প্ৰতিশ্রুত হইতেছিলেন। ইংরাজিও তাহার সন্ধান লাভ করিয়াছিলেন। চতুর-চুড়ামণি কৰ্ণেল ক্লাইব সর্বাগ্রে সে পথে অগ্রসর হইবার আশায় বিলাতে পত্ৰ লিখিয়াছিলেন । ক্লাইবের পরামর্শ গৃহীত হইলে, ইংরাজ-বণিক বহুপূর্বে দেওয়ানী-সনন্দ লাভ করিয়া বঙ্গবিহার-উড়িষ্যার শাসন-ক্ষমতা হস্তগত করিতে পারিতেন । তখন সে কথায় কেহ কৰ্ণপাত না করায়, মীরকাসিম স্বাধীনভাবে রাজ্য গঠনের চেষ্টা করিবার অবসর লাভ করিয়াছিলেন ।