পাতা:মীরকাসিম - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুৰ্দশ পরিচ্ছেদ YY) A ছিলেন ; প্রভুর আজ্ঞা প্ৰাপ্ত হইলে, তাহার হিতাহিত বিচার করিতেন না । সমরুর প্রকৃত নাম ওয়ালটার রেনল্ড । সিংহাসনে আরোহণ করিবার পূর্বে মীর কাসিম সেনানায়কের কাৰ্য্যে নিযুক্ত থাকিয়াই জীবিকা উপাৰ্জন করিতেন। সামরিক ব্যাপারে তঁহার অভিজ্ঞতার অভাব ছিল না । তথাপি সিংহাসনে আরোহণ করিরার পর মীর কাসিম যুদ্ধ ব্যবসায় পরিত্যাগ করিয়া বিশ্বাসী সেনানায়ক গণের হস্তেই সকল ভার ন্যস্ত করিয়াছিলেন । ইংরাজ ইতিহাসলেখকদিগের মধ্যে কেহ কেহ তঁহাকে এই কারণে রণভীরু বলিয়া ও বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন । মীর কাসিমের সেনানায়কগণ শৌৰ্য্য-বীৰ্য্য ও সমরকৌশলে ইংরাজ সেনানায়কদিগের সমকক্ষ হইয়া উঠিয়াছিলেন। তঁহাদের উপর নির্ভর করিয়াই মীর কাসিম ইংরাজের সহিত কলহ করিতে প্ৰবৃত্ত হইয়াছিলেন । কাসিম আলি জানিতেন-দেশের লোকের বাণিজ্য রক্ষার্থ ইংরাজের উচ্ছঙ্খল ব্যবহার দমন করিবার জন্য চেষ্টা করিলে যুদ্ধ উপস্থিত হইবে। তিনি যুদ্ধার্থ প্ৰস্তুত হইবার পূর্বে নীরবে অনেক লাঞ্ছনা সহ্যু করিয়াছিলেন । মীর কাসিম যে নীরবে সেনা সংগ্ৰহ করিতেছেন, সে কথা ইংরাজিদিগের অজ্ঞাত ছিল না । তঁহারাও সাধ্যমত বাহুবলে বাহুবল প্ৰতিহত করিবার জন্য আয়োজন করিতে ত্রুটি করেন নাই। বিবাদের কারণ-পরম্পরার অভাব ছিল না । প্ৰতিদিবস নবাব দরবারে ইংরাজ গোনিস্তার অত্যাচারকাহিনী মীর কাসিমকে উত্যক্ত করিয়া তুলিত । সময় হয় নাই বলিয়া মীর কাসিম হৃদয়বেগ দমন করিতেন । বালক সিরাজদ্দৌলা হৃদয়বেগে অধীর হইয়া অকালে কলহানলে আত্মবিসর্জন করিয়াছিলেন। প্ৰবীণ মীর কাসিম উপযুক্ত অবসরের প্রতীক্ষায় হৃদয়া বেগ দমন করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন ।