পাতা:মীরকাসিম - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ንŠ Stፖ মীর কাসিম অস্ত্ৰ শস্ত্ৰ সংগৃহীত ও সেনাদল সুশিক্ষিত হইলে, মীর কাসিন বেতিয়া-রাজ্য জয় করিয়া নেপাল অভিমুখে যুদ্ধযাত্ৰা করিলেন। তৎকালে মোরঙ্গ নামক নেপালের “তারাই” প্রদেশ লইযা সৰ্ব্বদা কলহ উপস্থিত হইত। তিব্বত যাত্রী পৰ্য্যটকগণের নিকট নেপালের প্রবেশপথের সন্ধানলাভ করিয়া, মীর কাসিম গিরিসঙ্কট উত্তীর্ণ হইয়া নেপালরাজ্য আক্রমণ করিলেন। ইউরোপীয় প্ৰণালীতে সুশিক্ষিত নবাব সেনা নেপালের সুবিখ্যাত বীরপুরুষগণকে সন্মুখযুদ্ধে পরাস্ত করিয়াও গুপ্ত আক্রমণে নিয়ত ব্যতিব্যস্ত হইতে লাগিলেন। ইহাতে ভগ্নীমনোরথ হইয়া মীর কাসিম সসৈন্যে স্বদেশে প্রত্যাবৰ্ত্তন করিলেন। গুর্গণ থার শিক্ষাকৌশলে নবাবসেনাদল যে সম্মুখযুদ্ধে দুৰ্দ্ধৰ্ষ হইয়া উঠিয়াছে, সে কথা সৰ্ব্বত্র প্রচারিত হইয়া পড়িল । মোগল-সেনার সংস্কার সাধনের জন্য মীর কাসিম মুক্ত হস্তে অর্থ ব্যয় করিয়াছিলেন। তঁহার সেনাদলও নেপালযুদ্ধে আত্মশক্তির পবিচয় লাভ করিয়া ইউরোপীয় রণকৌশলের মাহাত্ম্য অনুভব করিতে সমর্থ হইয়াছিল। এই সময়ে বঙ্গদেশের অবস্থা সর্বাংশেই সমুন্নতি লাভ করিয়াছি লৈ। রাজকোষে অর্থের অভাব ছিল না ; নবাৰসেনা সুশিক্ষিত হইয়া উঠিয়াছিল ; শিল্প বাণিজ্যে বঙ্গবাসী জগদ্বিখ্যাত হইয়া নানা দেশে পণ্যদ্রব্য প্রেরণ করিবার সুযোগ প্ৰাপ্ত হইয়াছিল। মীর কাসিমের ন্যায়-বিচারে অরাজকতা দূর হইয়া দেশের সকল স্থানেই সুবিচার প্ৰতিষ্ঠালাভ করিয়াছিল। তথাপি এই সময়েই বঙ্গবাসীর হাহাকার সৰ্বাপেক্ষা প্ৰবল হইয়া উঠিতে লাগিল । দেশের লোকের পক্ষে বাণিজ্য ব্যাপারে অর্থে পার্জন করা অসম্ভব হইয়া উঠিল। আড়ঙ্গে যে সকল পণ্যদ্রব্য আনীত হইত, ইংরাঞ্জেরাই তাহা আত্মসাৎ করিতেন। তাহারা অল্পমূল্যে ক্ৰয় করিয়া অগ্নিমূল্যে