পাতা:মীরকাসিম - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষোড়শ পরিচ্ছেদ SNS লেপনের জন্যই ব্যগ্ৰ হইয়া উঠিয়াছিলেন। তঁহাদের নিকট সুবিচার লাভের আশা ছিল না। উত্তরকালের ইংরাজি-ইতিহাসলেখকগণ মীর কাসিমের প্রতি সুবিচার করিতে ক্ৰটি করেন নাই। ইংরাজিদিগের দোষেই যে যুদ্ধ কলহ উপস্থিত হইয়াছিল, তাহা এক্ষণে সকলেই একবাক্যে স্বীকার করিয়া থাকেন । ঘটনাচক্রে মুসলমান-শাসন ভাসিয়া গিয়াছে। ঘটনাচক্র ভিন্নভাবে আবৰ্ত্তিত হইলে, ইংরাজিদিগের ব্যবহারই যে ইংরাজশক্তি উচ্ছেদ সাধনের মূল কারণরূপে ইতিহাসে নিন্দিত হইত। তাহাতে সংশয় নাই । এতকাল পরে তাহা সকলেই বুঝিতে পারিতেছেন। সেকালের তঁাহারা এই সরল কথা বুঝিতে পারেন নাই। র্তাহারা বাহুবলকেই একমাত্র আশ্ৰয়স্থল বলিয়া বুঝিয়াছিলেন। সুতরাং বাহুবলেরই প্ৰাধান্য প্রতিষ্ঠিত क्षेशींछिळ । সেকালের বাহুবল কেবল বাহুবলের উপরেই নির্ভর করিত না ; লোকে তাহার সহিত ছলকৌশল সংযুক্ত করিবার জন্যও লালায়িত হইত। একালেও তাহা একেবারে পরিত্যক্ত হয় নাই। মীর কাসিমের পত্ৰ পাইয়া, ইংরাজগণ কেবল বাহুবলের উপর নির্ভর করিয়া নিশ্চিন্ত হইতে পারিলেন না। ;-বাহুবলের সহিত ছল কৌশল সংযোগের চেষ্টা প্ৰবৰ্ত্তিত হইল । যে উপায়ে সিরাজদ্দৌলার অধঃপতন সম্পাদিত হইয়াছিল, মীর কাসিমের অধঃপতন সাধনের জন্য সে উপায় অবলম্বন করিবার বিশেষ সম্ভাবনা ছিল না। তথাপি যাহা ছিল, তাহাও উপেক্ষিত হইল না । সে উপায় আর কিছু নহে-আবার মীর জাফর !