পাতা:মীরকাসিম - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&e R মীর কাসিম করিয়া, কোনরূপে প্ৰাণরক্ষা করিলেন ;-উল্লঙ্ঘনে অনভ্যস্ত মোগলঅশ্বারোহী তাহদের পশ্চাদ্ধাবন করিতে পারিল না । বিজয়গর্বে উৎফুল্প হইয়াই নবাব-সেনার সর্বনাশ হইল। ইংরাজ-সেনা লাঞ্ছিত হইয়া, সমধিক সতর্কভাবে অগ্রসর হইতে লাগিল। তাহারা বুঢ়াহ রচনা করিয়া যুদ্ধোন্মুখ ভাবে, ধীরে ধীরে অগ্রসর হইয়া ব্যাকসরের নিকটবৰ্ত্তী হইল। সে দিন পরিশ্রান্ত ইংরাজ-সেনাকে আক্ৰমণ করিতে পারিলে, ইংরাজের সাধনাশ হইত। সুজা-উদ্দৌলা সসৈন্যে অগ্রসর হইতেছেন দেখিয়া, ইংরাজ-সেনাদলে আতঙ্ক উপস্থিত হইয়াছিল ; কিন্তু সুজা-উদ্দৌলা সে দিন আক্রমণ না করিয়া শিবিরে প্রত্যাবৰ্ত্তন করায়, ইরাজ-সেনা বিশ্রাম লাভের অবসর প্রাপ্ত হইল। সে রজনীতে ইংরাজশিবিরের সেনানায়কগণ বিশ্রামসুখ উপভোগ করিতে পারিলেন না। ;-সমরসভায় মিলিত হইয়া, তর্কবিতর্কে কৰ্ত্তব্য নিৰ্ণয় করিতেই রজনী প্ৰভাত হইয়া গেল। ১৭৬৪ খৃষ্টাব্দের ২৩শে অক্টোবর তারিখে, রজনী প্ৰভাত হইবামাত্র নবাব-সেনা দলে দলে শিবির হইতে বহির্গত হইতে লাগিল । সে দিন ইংরাজ-সেনা যুদ্ধের জন্য প্ৰস্তুত ছিল না ; কিন্তু সেনাপতির আদেশে তাহাদিগকে সজীভূত হইতে হইল। প্ৰথমে উভয় পক্ষ দূর হইতে কামান ছাড়িয়া যুদ্ধ ঘোষণা করিল। পরে শত্রু মিত্র পরস্পরের সম্মুখীন হইয়া, মহা সমরে মিলিত হইয়া গেল । সুজা-উদ্দৌলা বিজয়-লাভের আশায় উৎফুল্ল ছিলেন বলিয়াই বোধ হয় । তঁহার পটমণ্ডপ ধনরত্ন, মহিলাবর্গ সমস্তই শিবিরে রাখিয়া, তিনি নিশ্চিন্ত হৃদয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হইয়াছিলেন। কেবল কি ভাবিয়া মীর কাসিমকে মুক্তি দান করিয়াছিলেন, তাহা অদ্যাপি বিস্ময়ের বিষয় হইয়া রহিয়াছে । মীর কাসিম মুক্তি লাভ করিয়া, শিবির ত্যাগ করিবার পরই, কামান গৰ্জনের সূত্ৰপাত হয় । সেদিন মোগল-সেনানায়কগণ বীরত্বের পয়াকাষ্ঠ প্ৰদৰ্শন করিয়াছিলেন ; ইংরাজ-সেনানায়কগণও রণকৌশলের