পাতা:মৃণালিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

চৌরোদ্ধরণিক।

৮৩

 পশুপতি শান্তশীলকে পুরস্কার করিয়া বিদায় করিলেন। পরে গৃহাভ্যন্তরে যথা বিচিত্র সূক্ষ্ম কারুকার্য্য খচিত মন্দিরে অষ্টভুজামূর্ত্তি স্থাপিতা আছে, তথায় গমন করিয়া প্রতিমাগ্রে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিলেন। পরে গাত্রোত্থান করিয়া যুক্ত করে ভক্তিভাবে ইষ্টদেবের স্তুতি করিয়া কহিলেন, “জননি! বিশ্ব-পাত্রি! আমি অকূল সাগরে ঝাঁপ দিলাম—দেখিও মা! আমায় উদ্ধার করিও। আমি জননী স্বরূপা জন্মভূমি কখন দেবদ্বেষী যবনকে বিক্রয় করিব না। কেবল মাত্র এই আমার পাপাভিসন্ধি যে অক্ষম প্রাচীন রাজার স্থানে আমি রাজা হইব। যেমন কণ্টকের দ্বারা কণ্টক উদ্ধার করিয়া পরে উভয় কণ্টককে দূরে নিক্ষিপ্ত করে—তেমনি আমি যবন সহায়তায় রাজ্য লাভ করিয়া রাজ্য সহায়তায় যবনকে নিপাত করিব। ইহাতে পাপ কি মা! যদি ইহাতে পাপ হয়, যাবজ্জীবন প্রজার সুখানুষ্ঠান করিয়া সে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিব। জগৎপ্রসবিনি! প্রসন্ন হইয়া আমার কামনা সিদ্ধ কর।”

 এই বলিয়া পশুপতি পুনরপি সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিলেন। প্রণাম করিয়া গাত্রোথান করিলেন— শয্যাগৃহে যাইবার জন্য। ফিরিলেন, ফিরিয়া দেখিলেন—অপূর্ব্ব দর্শন:—

 সম্মুখে, দ্বারদেশ ব্যাপিত করিয়া, জীবনময়ী প্রতিমারূপিণী তরুণী দাঁড়াইয়া রহিয়াছে।

 পশুপতি প্রথমে চমকিত হইলেন—শিহরিয়া উঠিলেন। পরক্ষণেই উচ্ছ্বাসোন্মুখ সমুদ্রবারিবৎ আনন্দে স্ফীত হইলেন।

 তরুণী বীণানিন্দিত স্বরে কহিলেন, “পশুপতি!”

 পশুপতি দেখিলেন——মনোরমা!