পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/১০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বনবাণী SV) দেবদারু আমি তখন ছিলেম শিলঙ পাহাড়ে, রাপভাবিক নন্দলাল ছিলেন কার্সিয়ঙে । তার কাছ থেকে ছোটো একটি পত্রপট পাওয়া গেল, তাতে পাহাড়ের উপর দেওদার গাছের ছবি আঁকা । চেয়ে চেয়ে মনে হল, ঐ একটি দেবদারুর মধ্যে যে শ্যামল শক্তির প্রকাশ, সমস্ত পর্বতের চেয়ে তা বড়ো, ঐ দেবদারুকে দেখা গেল হিমালয়ের তপস্যার সিদ্ধিরূপে । মহাকালের চরণপাতে হিমালয়ের প্রতিদিন ক্ষয় হচ্ছে, কিন্তু দেবদারুর মধ্যে যে প্ৰাণ, নব নব তরুণদেহের মধ্যে দিয়ে যুগে যুগে তা এগিয়ে চলবে । শিল্পীর পত্রপটের প্ৰত্যুত্তরে আমি এই কাব্যলিপি পাঠিয়ে দিলেম । 通 তপোমগ্ন হিমাদ্রির ব্ৰহ্মরন্ধ ভেদ করি চুপে বিপুল প্ৰাণের শিখা উচ্ছসিল দেবদারুরূপে । সূর্যের যে জ্যোতির্মন্ত্র তপস্বীর নিত্য-উচ্চারণ অন্তরের অন্ধকারে, পারিল না করিতে ধারণ সেই দীপ্ত রুদ্রবাণী— তপস্যার সৃষ্টিশক্তিবলে সে বাণী ধরিল শ্যামকায়া ; সবিতার সভাতলে করিল সাবিত্ৰীগান ; স্পন্দমান ছন্দের মর্মরে ধরিত্রীর সামগাথা বিস্তারিল অনন্ত অম্বরে । ঋজু দীর্ঘ দেবদারু— গিরি এরে শ্রেষ্ঠ করে জ্ঞান আপন মহিমা চেয়ে ; অন্তরে ছিল যে তার ধ্যান বাহিরে তা সত্য হল ; উর্ধর্ব হতে পেয়েছিল বাণ, উধৰ্ব্বপানে অৰ্ঘ্যরাপে শোধ করি দিল একদিন । আপন দানের পুণ্যে স্বৰ্গ তার রহিল না। দূর, সূর্যের সংগীতে মেশে মৃত্তিকার মুরলীর সুর । শিলঙ ২৪। জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৪ TNS<s সে বৎসর শান্তিনিকেতন-আম্ৰবীথিকায় বসন্ত-উৎসব হয়েছিল । কেউ-বা চিত্রে কেউ-বা কারুশিল্পে কেউ-বা কাব্যে আপন অর্ঘ্য এনেছিলেন । আমি ঋতুরাজকে নিবেদন করেছিলেম। কয়েকটি কবিতা, তার মধ্যে নিম্নলিখিত একটি । সেদিন উৎসবে যারা উপস্থিত ছিলেন, এই আস্রবনের সঙ্গে আমার পরিচয় র্তাদের সকলের চেয়ে পুরাতন- সেই আমার বালককালের আত্মীয়তা এই কবিতার মধ্যে আমার জীবনের পরাহুে প্ৰকাশ করে গেলেম । এই আস্রবনের যে নিমন্ত্রণ বালকের চিরবিস্মিত হৃদয়ে এসে পৌঁচেছিল আজ মনে হয় সেই নিমন্ত্রণ যেন আবার আসছে মাটির মেঠো সুর নিয়ে, রৌদ্রতপ্ত ঘাসের গন্ধ নিয়ে, উত্তেজিত শালিখগুলির কাকলিবিক্ষুব্ধ অপরাহুের অবকাশ নিয়ে । তব পথচ্ছায়া বাহি বাঁশরিতে যে বাজালো আজি মর্মে তব অশ্রুত রাগিণী, ওগো আহস্ৰবন, তারি সম্পর্শে রহি রহি আমারও হৃদয় উঠে বাজি চিনি তারে কিংবা নাহি চিনি, GR ଓCଲ (~~ !