পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/১১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Nobr झोल्या-झ>ब्षादाव्ी আমি সেই ভ্ৰমরের দলে । তুমি আভিজাত্যহীনা, নামের গৌরবহারা ; শ্বেতভূজা ভারতীর বীণা তোমাৱে করে নি। অভ্যর্থনা অলংকারবাংকারিত কাব্যের মন্দিরে । তবু সেথা তব স্থান অবারিত, বিশ্বলক্ষ্মী করেছেন আমন্ত্রণ যে প্ৰাঙ্গণতলে প্ৰসাদ চিহ্নিত তার নিত্যকার অতিথির দলে । আমি কবি লজা পাই কবির অন্যায় অবিচারে হে সুন্দরী । শাস্ত্ৰদূষ্টি দিয়ে তারা দেখেছে তোমারে, রসদৃষ্টি দিয়ে নহে ; শুভদৃষ্টি কোনো সুলগনে ঘটিতে পারে নি। তাই, ঔদাস্যের মোহ-আবরণে রহিলে কুষ্ঠিত হয়ে । তোমারে দেখেছি সেই কবে। নগরে হাটের ধারে জনতার নিত্যকলরবে, ইটকাঠ্যপাথরের শাসনের সংকীর্ণ আড়ালে, প্রাচীরের বহিঃপ্রান্তে । সূর্যপানে চাহিয়া দাড়ালে সকরুণ অভিমানে ; সহসা পড়েছে যেন মনে একদিন ছিলে যাবে মহেন্দ্রের নন্দনকাননে পারিজাত মঞ্জরির লীলার সঙ্গিনীরূপ ধরি চিরবিসন্তের স্বগো, ইন্দ্ৰাণীর সাজাতে কবরী ; অন্সরীর নৃত্যলোল মণিবন্ধে কঙ্কণবন্ধনে পেতে দোল তালে তালে ; পূর্ণিমার অমল চন্দনে মাখা হয়ে নিঃশ্বসিতে চন্দ্ৰমার বক্ষোহার-’পারে । অদূরে কঙ্কর রুক্ষ লৌহপথে কঠোর ঘর্ঘরে চলেছে আগ্নেয়রথ, পণ্যভারে কম্পিত ধরায় ঔদ্ধত্য বিস্তারি বেগে ; কটাক্ষে কেহ না ফিরে চায় অর্থমূল্যহীন তোমা-পানে, হে তুমি দেবের প্ৰিয়া, স্বগের দুলালী । যবে নাটমন্দিরের পথ দিয়া বেসুর অসুর চলে, সেইক্ষণে তুমি একাকিনী দক্ষিণবায়ুর ছন্দে বাজায়েছ সুগন্ধ-কিঙ্কিণী ঐশ্বর্যের ছদ্মবেশী ধুলির দুঃসহ অহংকারে হানিয়া মধুর হাস্য ; শাখায় শাখায় উচ্ছসিত ক্লান্তিহীন সৌন্দর্যের আত্মহারা অজস্ৰ অমৃত করেছ নিঃশব্দ নিবেদন । মোর মুগ্ধ চিত্তময় সেইদিন অকস্মাৎ আমার প্রথম পরিচয় তোমা-সাথে । অনাদৃত বসন্তেরে আবাহনগীতে প্ৰণমিয়া, উপেক্ষিতা, শুভক্ষণে কৃতজ্ঞ এ চিতে পদাপিলে অক্ষয় গৌরবে । সেইক্ষণে জানিলাম,