পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/১৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিশেষ S8S আমার মেলা ভাঙবে যখন দেব খেয়ায় পাড়ি, আমার পড়ার মাঝে তারি। আসার ঘণ্টা যদি বাজে সহজ মনে পারি। যেন আসার ছেড়ে দিতে নতুন কালের বাশিটিরে নতুন প্ৰাণের গীতে । ভরেছিলেম। এই ফাগুনের ডালা তা নিয়ে কেউ নাই-বা গাঁথুক আর-ফাগুনের মালা ।” প্লানসিউস জাহাজ ya VS7f6 Y RA S. বছর বিশেক চলে গেল সাঙ্গ তখন ঠেলাগাড়ির খেলা ; নন্দ বললে, “দাদামশায়, কী লিখেছি শোনাও তো এইবেলা ?” পড়তে গেলেম ভরসাতে বুক বেঁধে, . কণ্ঠ যে যায় বোধে টেনে টেনে বাহির করি এ খাতা ওই খাতা, উলটে মারি এ পাতা ওই পাতা । ভয়ের চোখে যতই দেখি লেখা, মনে হয় যে রস কিছু নেই, রেখার পরে রেখা । গোপনে তার মুখের পানে চাহি, বুদ্ধি সেথায় পাহারা দেয় একটু ক্ষমা নাহি। নতুনকালের শান-দেওয়া তার ললাটখানি খরখড়গ-সম, শীর্ণ যাহা জীৰ্ণ যাহা তার প্রতি নির্মম । তীক্ষু সজাগ আঁখি, কটাক্ষে তার ধরা পড়ে কোথা যে কার ফাকি । সংসারেতে গর্তগুহা যেখানে-যা সবখানে দেয়। উকি, অমিশ্র বাস্তবের সাথে নিত্য মুখোমুখি । তীব্ৰ তাহার হাস্য বিশ্বকাজের মোহমুক্ত ভাষ্য । একটু কেশে পড়া করলেম শুরু যৌবনে যা শিখিয়েছিলেন অন্তৰ্যামী আমার কবিগুরু প্ৰথম প্রেমের কথা, আপনাকে সেই জানে না যেই গভীর ব্যাকুলতা, সেই যে বিধুর তীব্রমধুর তারাসাদোদুল বক্ষ দুরু দুরু, উড়ো পাখির ডানার মতো যুগল কালো ভুরু, নীরব চোখের ভাষা, এক নিমেষে। উচ্ছলি দেয় চিরদিনের আশা, তাহারি সেই দ্বিধার ঘায়ে ব্যথায় কম্পমান দুটি-একটি গান ।