পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/১৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিশেষ তেমনিতরো গোলাপলতা লতাবিতান ঢেকে অজস্র তার ফুলের ভাষায় অন্ত না পায় উদ্দেশহীন ডেকে । পাইনবনের প্রাচীন তরু তাকায় মেঘের মুখে, মস্ত্ৰে যেন থমক লেগে আছে । দুটি দালিম গাছে ঘনরাঙা ফুলের গুচ্ছ দোলে ! পায়ের কাছে একটি কপ্টিক্যারি দূরের শূন্যে আপনাকে সে প্রচার নাহি করে । মাটির কাছে নত হলে পরে স্নিগ্ধ সাড়া দেয় সে ধীরে ধূলিশয়ন থেকে নীলবরনের ফুলের বুকে একটুখানি সোনার বিন্দু এঁকে । সেদিন যত রিচেছিলাম গান কণিটকারির দান তাদের সুরে স্বীকার করা আছে। দুঃখ দিনের দুর্ভাবনার প্রচণ্ড পীড়নে, হঠাৎ কেন জাগল আমার মনে, সেই সকালের টুকরো একটুখানিমাটির কাছে কণ্টিকারির নীল-সোনালির বাণী । আরেক দিন স্পষ্ট মনে জাগে, তিরিশ বছর আগে তখন আমার বয়স পঁচিশ- কিছুকালের তরে এই দেশেতেই এসেছিলেম, এই বাগানের ঘরে । সূৰ্য যখন নেমে যেত নীচে দিনের শেষে ওই পাহাড়ে পাইনশাখার পিছে, নীল শিখরের আগায় মেঘে মেঘে আগুনবারন কিরণ রইত লেগে, দীর্ঘ ছায়া বনে বনে এলিয়ে যেত। পর্বতে পর্বতে সামনেতে ওই বঁকাকর-ঢালা পথে দিনের পরে দিনে ডাক-পিয়নের পায়ের ধবনি নিত্য নিতেম চিনে । NGO