পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/২৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুনশ্চ যেদিন এল বিচ্ছেদ সেদিন বঁাধন-ছাড়া দুঃখ বেরোল নদী গিরি অরণ্যের উপর দিয়ে । কোণের কান্না মিলিয়ে গেল পথের উল্লাসে । অবশেষে ব্যথার রূপ দেখা গোল যে কৈলাসে যাত্রা হল শেষ । সেখানে অচল ঐশ্বর্যের মাঝখানে প্ৰতীক্ষার নিশ্চল বেদন । অপূর্ণ যখন চলেছে পূর্ণের দিকে তার বিচ্ছেদের যাত্রাপথে আনন্দের নব নব পৰ্যায় । পরিপূর্ণ অপেক্ষা করছে স্থির হয়ে ; নিত্যপুষ্প, নিত্যচন্দ্রালোক, নিত্যই সে একা- সেই তো একান্ত বিরহী । যে অভিসারিকা তারই জয়, আনন্দে সে চলেছে কঁাটা মাড়িয়ে । ভুল বলা হল বুঝি । সেও তো নেই স্থির হয়ে যে পরিপূর্ণ সে যে বাজায় বঁশি, প্ৰতীক্ষার বঁাশিসুর তার এগিয়ে চলে অন্ধকার পথে । বাঞ্ছিতের আহবান আর অভিসারিকার চলা পদে পদে মিলছে একই তালে । তাই নদী চলেছে। যাত্রার ছন্দে, সমুদ্র দুলছে আহবানের সুরে । CA VS S KOVOS স্মৃতি পশ্চিমে শহর । তারি দূর কিনারায় নির্জনে দিনের তাপ আগলে আছে একটা অনাদৃত বাড়ি, চারিদিকে চাল পড়েছে ঝুকে । ঘরগুলোর মধ্যে চিরকালের ছায়া উপুড় হয়ে পড়ে, আর চিরবিন্দী পুরাতনের একটা গন্ধ । মেঝের উপর হলদে জাজিম, ধারে ধারে ছাপ-দেওয়া বন্দুক-ধারী বাঘ-মারা শিকারীর মুর্তি । উত্তর দিকে সিসুগাছের তলা দিয়ে চলেছে সাদা মাটির রাস্তা, উড়ছে ধুলো খররেীদ্রের গায়ে হালকা উড়নির মতো । եrllֆ Գ