পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sobr রবীন্দ্ৰ-রচনাবলী তীর্থযাত্রী ft. q>- afërsis'a: The Journey of the Magi-arajsë sfivis Vejsit কনকনে ঠাণ্ডায় আমাদের যাত্ৰা ভ্ৰমণটা বিষম দীর্ঘ, সময়টা সব চেয়ে খারাপ, রাস্তা ঘোরালো, ধারালো বাতাসের চোট, একেবারে দুর্জয় শীত । ঘাড়ে ক্ষত, পায়ে ব্যথা, মেজাজ-চড়া উটগুলো শুয়ে শুয়ে পড়ে গলা বরফে । মাঝে মাঝে মন যায় বিগড়ে যখন মনে পড়ে পাহাড়তলিতে বসন্তমঞ্জিল, তার চাতাল, আর শর্বতের পেয়ালা হাতে রেশমি সাজে। যুবতীর দল । এ দিকে উটওয়ালারা গাল পাড়ে, গানগন করে রাগে, ছুটে পালায় মদ আর মেয়ের খোজে। মশাল যায় নিভে, মাথা রাখবার জায়গা জোটে না । নগরে যাই, সেখানে বৈরিতা ; নগরীতে সন্দেহ । গ্রামগুলো নোংরা, তারা চড়া দাম ইহাকে । কঠিন মুশকিল । শেষে ঠিাওরালেম চলাব সারারাত, মাঝে মাঝে নেব বিমিয়ে আর কানে কানে কেউ বা গান গাবে এ সমস্তই পাগলামি । ভোরের দিকে এলেম যেখানে মিঠে শীত সেই পাহাড়ের খদে ; সেখানে বরফ-সীমার নীচেটা ভিজে-ভিজে, ঘন গাছ-গাছালির গন্ধ । নদী চলেছে ছুটে, জলযান্ত্রের চাকা আঁধারকে মারছে চাপড় । বুড়ো সাদা ঘোড়াটা মাঠ বেয়ে দৌড় দিয়েছে। পৌছলেম শরাবখানায়, তার কপাটের মাথায় আঙুরলতা । পা দিয়ে ঠেলছে শূন্য মদের কুপো । কোনো খবরই মিলল না। সেখানে, চললেম আরো আগে । যেতে যেতে সন্ধে হল ; সময় পেরিয়ে যায় যায়, তখন খুঁজে পেলেম জায়গাটা বলা যেতে পারে ব্যাপারটা তৃপ্তিজনক । মনে পড়ে এ-সব ঘটেছে অনেক কাল আগে, আবার ঘটে যেন এই ইচ্ছে, কিন্তু লিখে রাখেএই লিখে রাখে- এত দূরে যে আমাদের টেনে নিয়েছিল সে কি জন্মের সন্ধানে না মৃত্যুর ।