পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্ৰ-রচনাবলী সন্ধ্যাবেলায় স্নান শেষ করে। রামানন্দ নৈবেদ্য দিলেন ঠাকুরের পায়ে প্ৰসাদ নামিল না। তার অন্তরে, আহার হল না সেদিন । এমনি যখন দুই সন্ধ্যা গেল কেটে, হৃদয় রইল। শুষ্ক হয়ে, গুরু বললেন মাটিতে ঠেকিয়ে মাথা, “ঠাকুর, কী অপরাধ করেছি।” ঠাকুর বললেন, “আমার বাস কি কেবল বৈকুণ্ঠে । সেদিন আমার মন্দিরে যারা প্ৰবেশ পায় নি আমার সম্পর্শ যে তাদের সর্বাঙ্গে, প্ৰাণপ্ৰবাহিণী বইছে তাদের শিরায় । তাদের অপমান আমাকে বেজেছে ; আজ তোমার হাতের নৈবেদ্য অশুচি ।”

  • লোকস্থিতি রক্ষা করতে হবে যে প্ৰভু

বলে গুরু চেয়ে রইলেন ঠাকুরের মুখের দিকে । ঠাকুরের চক্ষু দীপ্ত হয়ে উঠল ; বললেন, “যে লোকসৃষ্টি স্বয়ং আমার, যার প্রাঙ্গণে সকল মানুষের নিমন্ত্রণ, তার মধ্যে তোমার লোকস্থিতির বেড়া তুলে এতবড়ো সম্পর্ধা !” রামানন্দ বললেন, “প্ৰভাতেই যাব এই সীমা ছেড়ে, দেব আমার অহংকার দূর করে তোমার বিশ্বলোকে ৷” তখন রাত্রি তিন-প্রহর, আকাশের তারাগুলি যেন ধ্যানমগ্ন । গুরুর নিদ্রা গেল ভেঙে ; শুনতে পেলেন, “সময় হয়েছে, ওঠে, প্ৰতিজ্ঞা পালন করো ।” পথ অন্ধকার, পাখিরা নীরব । প্ৰভাতের অপেক্ষায় আছি ।” ঠাকুর বললেন, “প্ৰভাত কি রাত্রির অবসানে । যখনি চিত্ত জেগেছে, শুনেছি বাণী, তখনি এসেছে প্ৰভাত । zir63 C:\ORANS) SN59ier GN o রামানন্দ বাহির হলেন পথে একাকী, মাথার উপরে জাগে ধ্রুবতারা । পার হয়ে গেলেন নগর, পার হয়ে গেলেন গ্ৰাম । নদীতীরে শ্মশান, চণ্ডাল শবদাহে ব্যাপৃত ।