পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুনশ্চ ভোরের স্পর্শ নামল মাটির গভীরে, বিশ্বসত্তার শিকড়ে শিকড়ে কেঁপে উঠলি প্ৰাণের চাঞ্চল্য । কে জানে কোথা হতে একটি অতি সূক্ষ্মস্বর সবার কানে কানে বললে, চলো সার্থকতার তীর্থে। এই বাণী জনতার কষ্ঠে কণ্ঠে একটি মহৎ প্রেরণায় বেগবান হয়ে উঠল । পুরুষেরা উপরের দিকে চোখ তুললে, জোড় হাত মাথায় ঠেকালে মেয়েরা । শিশুরা করতালি দিয়ে হেসে উঠল । প্ৰভাতের প্রথম আলো ভক্তের মাথায় সোনার রঙের চন্দন পরালে ; সবাই বলে উঠল, ভাই, আমরা তোমার বন্দনা করি । 8 যাত্রীরা চারি দিক থেকে বেরিয়ে পড়লসমুদ্র পেরিয়ে, পর্বত ডিঙিয়ে পথহীন প্ৰান্তর উত্তীর্ণ হয়েএল নীলনদীর দেশ থেকে, গঙ্গার তীর থেকে, তিববতের হিমামজিত অধিত্যকা থেকে, প্ৰাকাররক্ষিত নগরের সিংহদ্বার দিয়ে, লতাজালজটিল অরণ্যে পথ কেটে । কেউ রথে চীনাংশুকের পতাকা উড়িয়ে । নানা ধর্মের পূজারি চলল ধুপ জ্বালিয়ে, মন্ত্র পড়ে । রাজা চলল, অনুচরদের বর্শাফলকে রৌদ্রে দীপ্যমান, ভেরী বাজে শুরু গুরু মেঘমন্দ্ৰে । ভিক্ষু আসে ছিন্ন কস্থা পরে আর রাজ-অমাত্যের দল স্বৰ্ণলাঞ্ছনাখচিত উজ্জ্বল বেশে । জ্ঞানাগরিমা ও বয়সের ভারে মন্থর অধ্যাপককে ঠেলে দিয়ে চলে চটুলগীতি বিদ্যাখী যুবক । মেয়েরা চলেছে কলহাস্যে, কত মাতা, কুমারী, কত বন্ধু ; থালায় তাদের শ্বেতচন্দন, ঝারিতে গন্ধসলিল । বেশ্যাও চলেছে সেই সঙ্গে ; তীক্ষ তাদের কণ্ঠস্বর, অতিপ্ৰকট তাদের প্রসাধন । চলেছে। পঙ্গু, খঞ্জ, অন্ধ, আতুর, আর সাধুবেশী ধর্মব্যবসায়ীদেবতাকে হাটে হাটে বিক্রয় করা যাদের জীবিকা । সার্থকতা ! স্পষ্ট করে কিছু বলে না- কেবল নিজের লোভকে মহৎ নাম ও বৃহৎ মূল্য দিয়ে ওই শব্দটার ব্যাখ্যা করে, আর শান্তিশঙ্কাহীন চৌর্যবৃত্তির অনন্ত সুযোগ ও আপন মলিন ক্লিক্স দেহমাংসের অক্লান্ত লোলুপতা দিয়ে কল্পস্বৰ্গরচনা করে । VO SRS