পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুনশ্চ রাত্ৰি পোহাতে চায় না । অপরাধের অভিযোগ নিয়ে মেয়ে পুরুষে তর্ক তীব্র হতে থাকে । সবাই চীৎকার করে, গর্জন করে, । শেষে যখন খাপ থেকে ছুরি বেরোতে চায় এমন সময় অন্ধকার ক্ষীণ হলপ্ৰভাতের আলো গিরিশৃঙ্গ ছাপিয়ে আকাশ ভরে দিলে । হঠাৎ সকলে স্তৱন্ধ :- * * রক্তাক্ত মৃত মানুষের শাস্তু ললাট । মেয়েরা ডাক ছেড়ে কেঁদে উঠল, পুরুষেরা মুখ ঢাকল দুই হাতে । কেউ বা অলক্ষিতে পালিয়ে যেতে চায়, পারে না ; অপরাধের শৃঙ্খলে আপনি বলির কাছে তারা বাধা । পরস্পরকে তারা শুধায়, কে আমাদের পথ দেখাবে । আমরা যাকে মেরেছি। সেই দেখাবে । সবাই নিরুত্তর ও নতশির । বৃদ্ধ আবার বললে, সংশয়ে তাকে আমরা অস্বীকার করেছি, ক্ৰোধে তাকে আমরা হনন করেছি, প্ৰেমে এখন আমরা তাকে গ্ৰহণ করব, কেননা, মৃত্যুর দ্বারা সে আমাদের সকলের জীবনের মধ্যে সঞ্জীবিত সেই মহামৃত্যুঞ্জয় । সকলে দাড়িয়ে উঠল, কণ্ঠ মিলিয়ে গান করলে “জয় মৃত্যুঞ্জয়ের জয়” । ኪም তরুণের দল ডাক দিল, চলে যাত্ৰা করি প্রেমের তীর্থে শক্তির তীর্থে। হাজার কঠের ধবনিনিবারে ঘোষিত হলআমরা ইহলোক জয় করব এবং লোকান্তর । উদ্দেশ্য সকলের কাছে স্পষ্ট নয়, কেবল আগ্রহে সকলে এক ; মৃত্যুবিপদকে তুচ্ছ করেছে সকলের সম্মিলিত সঞ্চলমান ইচ্ছার বেগ । তারা আর পথ শুধায় না, তাদের মনে নেই সংশয়, চরণে নেই ক্লান্তি । মৃত অধিনেতার আত্মা তাদের অন্তরে বাহিরেসে যে মৃত্যুকে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জীবনের সীমাকে করেছে অতিক্রম । তারা সেই ক্ষেত্র দিয়ে চলেছে যেখানে বীজ বোন হল, সেই ভাণ্ডারের পাশ দিয়ে যেখানে শস্য হয়েছে সঞ্চিত, সেই অনুর্বর ভূমির উপর দিয়ে যেখানে কঙ্কালসার দেহ বসে আছে প্ৰাণের কাঙালি ; তারা চলেছে প্ৰজাবাহুল নগরের পথ দিয়ে, চলেছে। জনশূন্যতার মধ্যে দিয়ে যেখানে বোবা অতীত তার ভাঙা কীর্তি কোলে নিয়ে নিস্তাৱন্ধ ; vo SVO