পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


VSR8 রবীন্দ্ৰ-রচনাবলী চলেছে লক্ষ্মীছাড়াদের জীর্ণ বসতি বেয়ে আশ্রয় যেখানে আশ্রিতকে বিদ্রুপ করে । রৌদ্রদগ্ধ বৈশাখের দীর্ঘ প্রহর কাটল পথে পথে । সন্ধ্যাবেলায় আলোক যখন স্নান তখন তারা কালজ্ঞকে শুধায়, ওই কি দেখা যায় আমাদের চরম আশার তোরণচূড়া । সে বলে, না, ও যে সন্ধ্যাভ্ৰশিখরে অস্তগামী সূর্যের বিলীয়মান আভা । তরুণ বলে, থেমো না বন্ধু, অন্ধতমিস্র রাত্রির মধ্য দিয়ে আমাদের পৌছতে হবে মৃত্যুহীন জ্যোতিলোকে । অন্ধকারে তারা চলে । পথ যেন নিজের অর্থ নিজে জানে, পায়ের তলার ধূলিও যেন নীরব স্পর্শে দিক চিনিয়ে দেয় । , স্বৰ্গপথযাত্রী নক্ষত্রের দল মুক সংগীতে বলে, সাথি, অগ্রসর হও । অধিনেতার আকাশবাণী কানে আসে- আর বিলম্ব নেই । ܬ প্ৰত্যুষের প্রথম আভা অরণ্যের শিশিরবষী পল্লাবে পল্লবে ঝলমল করে উঠল । নক্ষত্রসংকেতবিদ জ্যোতিষী বললে, বন্ধু, আমরা এসেছি । পথের দুই ধারে দিকপ্রান্ত অবধি পরিণত শস্যশীর্ষ স্নিগ্ধ বায়ুহিল্লোলে দোলায়মান— আকাশের স্বর্ণলিপির উত্তরে ধরণীর আনন্দবাণী । গিরিপদবতী গ্রাম থেকে নদীতলবতী গ্রাম পর্যন্ত প্ৰতিদিনের লোকযাত্রা শান্ত গতিতে প্রবহমানকুমোরের চাকা ঘুরছে গুঞ্জনস্বরে, রাখাল ধেনু নিয়ে চলেছে মাঠে, বধুরা নদী থেকে ঘট ভরে যায় ছায়াপথ দিয়ে । কিন্তু কোথায় রাজার দুর্গ, সোনার খনি, মারণ-উচাটন-মন্ত্রের পুরাতন পুঁথি ? জ্যোতিষী বললে, নক্ষত্রের ইঙ্গিতে ভুল হতে পারে না, তাদের সংকেত এইখানেই এসে থেমেছে । এই বলে ভক্তিনশ্রশিরে পথপ্ৰান্তে একটি উৎসের কাছে গিয়ে সে দাড়ালো । সেই উৎস থেকে জলস্রোত উঠছে যেন তরল আলোক, প্ৰভাত যেন হাসি-অশ্রুর গলিত মিলিত গীতধারায় সমুচ্ছল । নিকটে তালীকুঞ্জতলে একটি পর্ণকুটির অনির্বচনীয় স্তব্ধতায় পরিবেষ্টিত । দ্বারে অপরিচিত সিন্ধুতীরের কবি গান গেয়ে বলছেমাতা, দ্বার খোলো ।