পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুনশ্চ VO SR62 Y o প্ৰভাতের একটি রবিরশ্মি রুদ্ধদ্বারের নিম্নপ্রান্তে তির্যক হয়ে পড়েছে। সম্মিলিত জনসংঘ আপন নাড়ীতে নাড়ীতে যেন শুনতে পেলে সৃষ্টির সেই প্ৰথম পরমবাণী-মাতা, দ্বার খোলো । দ্বার খুলে গেল । মা বসে আছেন তৃণশয্যায়, কোলে তার শিশু, উষার কোলে যেন শুকতারা । দ্বারপ্রান্তে প্ৰতীক্ষাপরায়ণ সূর্যরশ্মি শিশুর মাথায় এসে পড়ল । কবি দিলে আপনি বীণার তারে ঝংকার, গান উঠল আকাশেজয় হােক মানুষের, ওই নবজাতকের, ওই চিরজীবিতের । সকলে জানু পেতে বসল, রাজা এবং ভিক্ষু, সাধু এবং পাপী, জ্ঞানী এবং মূঢ় ; উচ্চস্বরে ঘোষণা করলে- জয় হােক মানুষের, ওই নবজাতকের, ওই চিরজীবিতের । [ শ্রাবণ ১৩৩৮ ] শাপমোচন গন্ধৰ্ব সৌরসেন সুরলোকের সংগীতসভায় কল্যানায়কদের অগ্ৰণী । সেদিন তার প্ৰেয়সী মধুগ্ৰী গেছে সুমেরুশিখরে সূৰ্যপ্ৰদক্ষিণে । সৌরসেনের মন ছিল। উদাসী । অনবধানে তার মৃদুঙ্গের তাল গেল কেটে, উর্বশীর নাচে শমে পড়ল বাধা, ইন্দ্ৰাণীর কপোল উঠল রাঙা হয়ে । স্বলিতছন্দ সুরসভার অভিশাপে গন্ধর্বের দেহশ্ৰী বিকৃত হয়ে গেল, অরুণেশ্বর নাম নিয়ে তার জন্ম হল গান্ধােররাজগৃহে । মধুগ্ৰী ইন্দ্ৰাণীর পাদপীঠে মাথা রেখে পড়ে রইল ; বললে, “বিচ্ছেদ ঘটিয়ে না, একই লোকে আমাদের গতি হােক, একই দুঃখভোগে, একই অবমাননায় ।” শচী সকরুণ দৃষ্টিতে ইন্দ্রের পানে তাকালেন । ইন্দ্ৰ বললেন, “তথাস্তু, যাও মর্তে সেখানে দুঃখ পাবে, দুঃখ দেবে। সেই দুঃখে ছন্দঃপতন; অপরাধের ক্ষয় ।” মধুগ্ৰী জন্ম নিল মদ্ররাজকুলে, নাম নিল কমালিকা ।