পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রক্তকরবী Vogy দেখছি না, পৌষের রোদুর পাকা ধানের লাবণ্য আকাশে মেলে দিচ্ছে ? হাওয়ার নেশায় উঠল মেতে দিগবন্ধুরা ধানের খেতে, রোদের সোনা ছড়িয়ে পড়ে মাটির আঁচলে মরি, হায় হায় হয় । তুমিও বেরিয়ে এসো রাজা, তোমাকে মাঠে নিয়ে যাই । মাঠের বঁশি শুনে শুনে আকাশ খুশি হলঘরেতে আজ কে রবে গো । খোলো দুয়ার খোলো । নেপথ্যে । আমি মাঠে যাব ? কোন কাজে লাগিব । নন্দিনী । মাঠের কাজ তোমার যক্ষপুরীর কাজের চেয়ে অনেক সহজ । নেপথ্যে । সহজ কাজটাই আমার কাছে শক্ত । সরোবর কি ফেনার-নুপুর-পরা ঝরনার মতো নাচতে পারে । যাও যাও, আর কথা কোয়ো না, সময় নেই । নন্দিনী । অদ্ভুত তোমার শক্তি । যেদিন আমাকে তোমার ভাণ্ডারে ঢুকতে দিয়েছিলে, তোমার সোনার তাল দেখে কিছু আশ্চর্য হই নি, কিন্তু যে বিপুল শক্তি দিয়ে অনায়াসে সেইগুলোকে নিয়ে চুড়ো করে সাজাচ্ছিলে, তাই দেখে মুগ্ধ হয়েছিলুম। তবু বলি, সোনার পিণ্ড কি তোমার ঐ হাতের আশ্চর্য ছন্দে সাড়া দেয়, যেমন সাড়া দিতে পারে ধানের খেত। আচ্ছা রাজা, বলে তো, পৃথিবীর এই মরা ধন দিনরাত नाgाष्ाएgा कद्धठ 0ठाभात्र टश श्श ना ? নেপথ্যে । কেন, ভয় কিসের । নন্দিনী । পৃথিবী আপনার প্রাণের জিনিস আপনি খুশি হয়ে দেয়। কিন্তু যখন তার বুক চিরে মরা হাড়গুলোকে ঐশ্বৰ্য বলে ছিনিয়ে নিয়ে আস তখন অন্ধকার থেকে একটা কানা রক্ষসের অভিসম্পাত নিয়ে আস । দেখছি না, এখানে সবাই যেন কেমন রেগে আছে, কিংবা সন্দেহ করছে, কিংবা ভয় পাচ্ছে ? নেপথ্যে । অভিসম্পাত ? নন্দিনী । হা, খুনোখুনি কড়াকড়ির অভিসম্পাত । নেপথ্যে। শাপের কথা জানি নে । এ জানি যে আমরা শক্তি নিয়ে আসি । আমার শক্তিতে তুমি খুশি इ९3, ब्ञन्निन्म ? নন্দিনী । ভারি খুশি লাগে । তাই তো বলছি আলোতে বেরিয়ে এসো, মাটির উপর পা দাও, পৃথিবী খুশি श6श ऎक । আলোর খুশি উঠল। জেগে ধানের শিষে শিশির লেগে, ধরার খুশি ধরে না গো, ওই-যে উথলে, মরি, হায় হায় হয় । নেপথ্যে । নন্দিনী, তুমি কি জানি, বিধাতা তোমাকেও রূপের মায়ার আড়ালে অপরূপ করে রেখেছেন ? তার মধ্যে থেকে ছিনিয়ে তোমাকে আমার মুঠোর ভিতর পেড়ে চাচ্ছি, কিছুতেই ধরতে পারছি নে । আমি তোমাকে উলটিয়ে পালটিয়ে দেখতে চাই, না পারি তো ভেঙেচুরে ফেলতে চাই । নন্দিনী । ও কী বলছি তুমি । নেপথ্যে । তোমার ঐ রক্তকরবীর আভাটুকু ছেকে নিয়ে আমার চোখে অঞ্জন করে পরতে পারি নে কেন । সামান্য পাপড়ি-কটা আঁচল৷ চাপা দিয়ে বাধা দিয়েছে । তেমনি বাধা তোমার মধ্যে- কোমল বলেই কঠিন । আচ্ছা নন্দিনী, আমাকে কী মনে কর, খুলে বলো তো । নন্দিনী । সে আর-এক দিন বলব । আজ তো তোমার সময় নেই, আজ যাই ।