পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


VOAO রবীন্দ্র-রচনাবলী নন্দিনী । আজ মনের খুশিতে ভাবলুম, এখানকার প্রাকারের উপর চড়ে ওদের গানে যোগ দেব। কোথাও পথ পেলুম না, তাই তোমার কাছে এসেছি। বিশু । আমি তো প্ৰাকার নাই । নন্দিনী । তুমিই আমার প্রাকার । তোমার কাছে এসে উচুতে উঠে বাহিরকে দেখতে পাই। বিশু । তোমার মুখে এ কথা শুনে আশ্চর্য লাগে। कान्निी । (कन । বিশু ।। যক্ষপুরীতে ঢুকে অবধি এতকাল মনে হত, জীবন হতে আমার আকাশখানা হারিয়ে ফেলেছি, মনে হত, এখানকার টুকরো মানুষদের সঙ্গে আমাকে এক টেকিতে কুটে একটা পিণ্ড পাকিয়ে তুলেছে। তার মধ্যে ফাক নেই। এমন সময় তুমি এসে আমার মুখের দিকে এমন করে চাইলে, আমি বুঝতে পারলুম আমার মধ্যে এখনো আলো দেখা যাচ্ছে । নন্দিনী । পাগলভাই, এই বন্ধ গড়ের ভিতরে কেবল তোমার-আমার মাঝখানটাতেই একখানা আকাশ বেঁচে আছে । বাকি আর-সব বোজা । বিশু । সেই আকাশটা আছে বলেই তোমাকে গান শোনাতে পারি। গান তোমায় গান শোনাব। তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখ ওগো ঘুমভাঙানিয়া ! বুকে চমক দিয়ে তাই তো ডাক ওগো দুখজগানিয়া ! এল আঁধার ঘিরে, পাখি এল নীড়ে, তরী এল তীরে, শুধু আমার হিয়া বিরাম পায় নাকো ওগো দুখজগানিয়া ! নন্দিনী । বিশুপাগল, তুমি আমাকে বলছ “দুখজগানিয়া’ ? বিশু । তুমি আমার সমুদ্রের অগম পারের দূতী ৷ যেদিন এলে যক্ষপুরীতে, আমার হৃদয়ে লোনা জলের হাওয়ায় এসে ধাক্কা দিলে । 7ाNद्र दFgछट्र बाद यादा কান্নাধারার দোলা তুমি থামতে দিলে না যে। আমায় পরশ করে প্ৰাণ সুধায় ভরে তুমি যাও যে সরে, বুঝি আমার ব্যথার আড়ালেতে দাড়িয়ে থাকো ওগো দুখজগানিয়া ! নন্দিনী । তোমাকে একটা কথা বলি, পাগল। যে দুঃখটির গান তুমি গাও, আগে আমি তার খবর পাই sR | বিশু । কেন, রঞ্জনের কাছে ?