পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩৯০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


W9ʻq S r ब्रदोक्-ब्रा5नादी বিশু । তার পরে ও কী বললে ? নন্দিনী । একসময় বেঁকে উঠে। ওর বর্শাফলার মতো দৃষ্টি আমার মুখের উপর রেখে হঠাৎ বলে উঠল, “আমি তোমাকে জানতে চাই।” আমার কেমন গা শিউরে উঠল। বললুম, “জানবার কী আছে ? আমি কি তোমার পুঁথি।' সে বললে, “পুঁথিতে যা আছে সব জানি, তোমাকে জানি নে ৷” তার পরে কিরকম ব্যগ্র হয়ে উঠে বললে, “রঞ্জনের কথা আমাকে বলে । তাকে কিরকম ভালোবাস ।’ আমি বললুম, “জলের ভিতরকার হল যেমন আকাশে উপরকার পালকে ভালোবাসে- পালে লাগে বাতাসের গান, আর হালে জাগে ঢেউয়ের নাচ ।” মস্ত একটা লোভী ছেলের মতো একদৃষ্টে তাকিয়ে চুপ করে শুনলে । হঠাৎ চমকিয়ে দিয়ে বলে উঠল, “ওর জন্যে প্ৰাণ দিতে পার ? আমি বললুম, “এখখনি।” ও যেন রেগে গর্জন করে বললে, ‘কখখনো না। আমি বললুম, “হাঁ পারি।” তাতে তোমার লাভ কী।’ বললুম, জানি নে।” তখন ছটফট করে বলে উঠল, “যাও, আমার ঘর থেকে যাও, যাও কাজ নষ্ট কোরো না ’ মানে বুঝতে পারলুম না । বিশু । সব কথার পষ্ট মানে ও জানতে চায়। যেটা ও বুঝতে পারে না, সেটাতে ওর মন ব্যাকুল করে দেয়, তাতেই ও রেগে ওঠে । নন্দিনী । পাগলভাই, ওর উপর দয়া হয় না তোমার ? বিশু । যেদিন ওর পরে বিধাতার দয়া হবে, সেদিন ও মরবো । নন্দিনী । না না, তুমি জান না, বেঁচে থাকবার জন্যে ও কিরকম মরিয়া হয়ে আছে। বিশু । ওর বঁাচা বলতে কী বোঝায়, সে তুমি আজই দেখতে পাবে— জানি নে সইতে পারবে কি না । নন্দিনী । ঐ দেখো পাগলভাই, ঐ ছায়া । নিশ্চয় সর্দার আমাদের কথা লুকিয়ে শুনেছে। বিশু । এখানে তো চার দিকেই সর্দারের ছায়া, এড়িয়ে চলবার জো কী ?- সর্দারকে কেমন লাগে ? নন্দিনী । ওর মতো মরা জিনিস দেখি নি। যেন বেতবন থেকে কেটে আনা বেত । পাতা নেই, শিকড় নেই, মজ্জায় রস নেই, শুকিয়ে লিকলিক করছে। বিশু । প্ৰাণকে শাসন করবার জন্যেই প্ৰাণ দিয়েছে দুৰ্ভাগা । নন্দিনী । চুপ করো, শুনতে পাবে। বিশু । চুপ করাটাকেও যে শুনতে পায়, তাতে আপদ আরো বাড়ে। যখন খোদাইকরদের সঙ্গে থাকি তখন কথায়-বার্তায় সর্দারকে সামলে চলি । তাই ওরা আমাকে অপদাৰ্থ বলে অশ্রদ্ধা করেই বঁচিয়ে রেখেছে। ওদের দণ্ডটা দিয়েও আমাকে ছোয় না । কিন্তু, পাগলি, তোর সামনে মনটা স্পর্ধিত হয়ে ওঠে, সাবধান হতে ঘূণা বোধ হয় । নন্দিনী । না, না, বিপদকে তুমি ডেকে এনে না । ঐ-যে সর্দার এসে পড়েছে। সর্দারের প্রবেশ সর্দার । কিগো ৬৯ঙ, সকলেরই সঙ্গে তোমার প্রণয়, বাছ-বিচার নেই ? বিশু । এমন-কি, তোমার সঙ্গেও শুরু হয়েছিল, বাছবিচার করতে গিয়েই বেধে গেল । সর্দার । কী নিয়ে আলাপ চলছে ? বিশু । তোমাদের দুর্গ থেকে কী করে বেরিয়ে আসা যায় পরামর্শ করছি। সর্দার । বল কী, এত সাহস ? কবুল করতেও ভয় নেই ? বিশু । সর্দার, মনে মনে তো সব জানোই । খাচার পাখি শলাগুলোকে ঠোকরায়, সে তো আদর করে নয়। এ কথা কবুল করলেই কী, না করলেই কী । সর্দার । আদর করে না, সে জানা আছে ; কিন্তু কবুল করতে ভয় করে না, সেটা এই কয়েক দিন থেকে জানান দিচ্ছে । নন্দিনী । সর্দারজি, তুমি যে বলেছিলে, আজ রঞ্জনকে এনে দেবে। কই, কথা রাখলে না ? সর্দার । আজই তাকে দেখতে পাবে। 画