পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


V8 রবীন্দ্র-রচনাবলী 6न्मP2Ü | Gद०ा । নন্দিনী । মনে হয়, যে জিনিসটাকে মন দিয়ে জানা যায় না, প্ৰাণ দিয়ে বোঝা যায়, তার ”পরে তোমার দরদ নেই । নেপথ্যে । তাকে বিশ্বাস করতে সাহস হয় না, পাছে ঠকি । যাও তুমি, সময় নষ্ট কোরো না ।- না না, একটু রোসো। তোমার অলকের থেকে ঐ যে রক্তকরবীর গুচ্ছ গালের কাছে নেমে পড়েছে, আমাকে ԿNՅ | ■ নন্দিনী । এ নিয়ে কী হবে ? নেপথ্যে। ঐ ফুলের গুচ্ছ দেখি আর মনে হয়, ঐ যেন আমারই রক্ত-আলোর শনিগ্ৰহ ফুলের রূপ ধরে এসেছে। কখনো ইচ্ছে করছে, তোমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলি, আবার ভাবছি, নন্দিনী যদি কোনোদিন নিজের হাতে ঐ মঞ্জরি আমার মাথায় পরিয়ে দেয়, তা হলে নন্দিনী । তা হলে কী হবে ? নেপথ্যে । তা হলে হয়তো আমি সহজে মরতে পারব । নন্দিনী । একজন মানুষ রক্তকরবী ভালোবাসে, আমি তাকে মনে করে ঐ ফুলে আমার কানের দুল করেছি । নেপথ্যে । তা হলে বলে দিচ্ছি, ও আমারও শনিগ্ৰহ, তারও শনিগ্ৰহ । নন্দিনী ; ছি:৷ ছি, ওকি কথা বলছি ! আমি যাই । নেপথ্যে । কোথায় যাবে ? নন্দিনী । তোমার দুর্গদুয়ারের কাছে বসে থাকব। নেপথ্যে । কেন । নন্দিনী । রঞ্জন যখন সেই পথ দিয়ে আসবে, দেখতে পাবে আমি তারই জন্যে অপেক্ষা করে আছি । নেপথ্যে । রঞ্জনকে যদি দলে ধুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দিই, আর তাকে একটুও চেনা না যায় ! নন্দিনী । আজ তোমার কী হয়েছে । আমাকে মিছিমিছি ভয় দেখােচ্ছ কেন । নেপথ্যে। মিছিমিছি ভয় ? জান না, আমি ভয়ংকর ? নন্দিনী । হঠাৎ তোমার এ কী ভাব ! লোকে তোমাকে ভয় করে। এইটেই দেখতে ভালোবাস ? আমাদের গায়ের শ্ৰীকণ্ঠ যাত্রায় রাক্ষস সাজে- সে যখন আসরে নামে তখন ছেলেরা আঁতকে উঠলে সে ভারি খুশি হয় । তোমারও যে সেই দশা । আমার কী মনে হয়। সত্যি বলব ? রাগ করবে না ? নেপথ্যে । কী বলো দেখি । নন্দিনী । ভয় দেখাবার ব্যাবসা এখানকার মানুষের । তোমাকে তাই তারা জাল দিয়ে ঘিরে অদ্ভুত সাজিয়ে রেখেছে। এই জুজুর পুতুল সেজে থাকতে লজ্জা করে না ! 6°८९ || दी वळ्नच्छ् नन्नैिी ? নন্দিনী । এতদিন যাদের ভয় দেখিয়ে এসেছি তারা ভয় পেতে একদিন লজা করবে। আমার রঞ্জন এখানে যদি থাকত তোমার মুখের উপর তুড়ি মেরে সে মরত, তবু ভয় পেত না । নেপথ্যে । তোমার স্পর্ধা তো কম নয়। এতদিন যা-কিছু ভেঙে চুরমার করেছি। তারই রাশকরা পাহাড়ের চুড়ার উপরে তোমাকে দাড় করিয়ে দেখাতে ইচ্ছে করছে। তার পরে নন্দিনী । তার পরে কী ? নেপথ্যে। তার পরে আমার শেষ ভাঙােটা ভেঙে ফেলি। দাড়িমের দানা ফাটিয়ে দশ আঙুলের ফাকে শুক মুন্নতার রস বের করে, তেমনি তােমাকে আমার এই দুটা হাতে—যাও যাও, এখনই পালিয়ে যাও, এখনই । নন্দিনী । এই রইলুম দাড়িয়ে । কী করতে পার করো। অমন বিশ্ৰী করে গর্জন করছ, কেন । নেপথ্যে । আমি যে কী অদ্ভুত নিষ্ঠুর, তার সমস্ত প্রমাণ তোমার কাছে প্রত্যক্ষ দেখিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে । আমার ঘরের ভিতর থেকে কখনো আর্তনাদ শোন নি ?