পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৪০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Vyrů রবীন্দ্ৰ-রচনাবলী মেজো সর্দারের প্রবেশ মেজো সর্দার । নাচওয়ালী আর বাজনাদারদের বাগানে রওনা করে দিয়ে এলুম। সর্দার । আর, রঞ্জনের সেটা কত দূরমেজো সর্দার। এ-সব কাজ আমার দ্বারা হয় না। ছােটাে সর্দার নিজে পছন্দ করে ভার নিয়েছে। এতক্ষণে তারি সর্দার । রাজা কিমেজো সর্দার । রাজা নিশ্চয় বুঝতে পারেন নি। দশজনের সঙ্গে মিশিয়ে তাকে- কিন্তু রাজাকে এরকম ঠিকানো আমি তো কর্তব্য মনে করি নে । সর্দার । রাজার প্রতি কর্তব্যের অনুরোধেই রাজাকে ঠকাতে হয়, রাজাকে ঠেকাতেও হয় । সে দায় আমার । এবার কিন্তু ঐ মেয়েটাকে অবিলম্বে মেজো সর্দার । না না, এ-সব কথা আমার সঙ্গে নয় । যে মোড়লের উপর ভার দেওয়া হয়েছে সে যোগ্য লোক, সে কোনোরকম নোংরামিকেই ভয় করে না । সর্দার । কেনারাম গোসাই কি জানে রঞ্জনের কথা । মেজো সর্দার । আন্দাজে সবই জানে, পষ্ট জানতে চায় না । সর্দার । কেন । মেজো সর্দার । পাছে জানি নে” এই কথা বলবার পথ বন্ধ হয়ে যায় । ज6ांद्ध । श्क-वां । মেজো সর্দার । বুঝছি না ? আমাদের তো শুধু একটা চেহারা, সর্দারের চেহারা । কিন্তু ওর-যে এক পিঠে গোসাঁই, আর-এক পিঠে সর্দার । নামাবলিটা একটু ফেসে গেলেই সেটা ফাস হয়ে পড়ে। তাই সর্দারিধর্মটা নিজের অগোচরে পালন করতে হয়, তা হলে নামজপের বেলায় খুব বেশি বাধে না । সর্দার । নামজপটা নাহয় ছেড়েই দিত । মেজো সর্দার । কিন্তু এ দিকে যে ওর মনটা ধর্মভীরু, রক্তটা যাইহােক। তাই স্পষ্টভাবে নাম জপ আর অস্পষ্টভাবে সর্দারি করতে পারলে ও সুস্থ থাকে । ও আছে বলেই আমাদের দেবতা আরামে আছে, তার কলঙ্ক ঢাকা পড়েছে, নইলে চেহারাটা ভালো দেখাত না । সর্দার । মেজো সর্দার, তোমারও দেখেছি রক্তের সঙ্গে সর্দারির রক্তের মিল হয় নি । মেজো সর্দার । রক্ত শুকিয়ে এলেই বালাই থাকবে না, এখনো সে আশা আছে। কিন্তু আজও তোমার ঐ তিনশো-একুশকে সইতে পারি নে। যাকে দূর থেকে চিমটে দিয়ে ছুতেও ঘেন্না করে, তাকে যখন সভার মাঝখানে সুহৃদ বলে বুকে জড়িয়ে ধরতে হয়, তখন কোনো তীৰ্থজলে স্নান করে নিজেকে শুচি বোধ হয় না ।- ঐ-য়ে নন্দিনী আসছে। সর্দার । চলে এসো, মেজো সর্দার । মেজো সর্দার । কেন । ভয় কিসের । সর্দার । তোমাকে বিশ্বাস করি নে ; আমি জানি, তোমার চোখে নন্দিনীর ঘোর লেগেছে। মেজো সর্দার। কিন্তু তুমি জানো না যে, তোমার চোখেও কর্তব্যের রঙের সঙ্গে রক্তকরবীর রঙ কিছু যেন মিশেছে, তাতেই রক্তিমা এতটা ভয়ংকর হয়ে উঠল । সর্দার । তা হবে, মনের কথা মন নিজেও জানে না । তুমি চলে এসো আমার সঙ্গে । [উভয়ের প্রস্থান নন্দিনীর প্রবেশ নন্দিনী । দেখতে দেখতে সিঁদুরে মেঘে আজকের গোধূলি রাঙা হয়ে উঠল। ঐ কি আমাদের মিলনের রঙ । আমার সিথের সিঁদুর যেন সমস্ত আকাশে ছড়িয়ে গেছে। (জানলায় ঘা দিয়ে) শোনো, শোনো, শোনো । দিনরাত এখানে পড়ে থাকবে, যতক্ষণ না শোনো ।