পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৪০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রক্তকরবী \Obyr CA গোসাইয়ের প্রবেশ গোসাঁই । ঠেলছ কাকে । নন্দিনী । তোমাদের যে-অজগর আড়ালে থেকে মানুষ গেলে তাকে । গোসাই । হরি হরি, ভগবান যখন ছোটােকে মারেন তখন তার ছোটােমুখে বড়োকথা দিয়েই মারেন । দেখো নন্দিনী, তুমি নিশ্চয় জেনো, আমি তোমার মঙ্গল চিন্তা করি । নন্দিনী । তাতে আমার মঙ্গল হবে না । গোসাই । এসো আমার ঠাকুরঘরে, তোমাকে নাম শোনাইগে । নন্দিনী । শুধু নাম নিয়ে করব কী । গোসাই । মনে শান্তি পাবে ! নন্দিনী । শান্তি যদি পাই তবে ধিক ধিক ধিক আমাকে । আমি এই দরজায় অপেক্ষা করে বসে থাকব । গোসাই । দেবতার চেয়ে মানুষের পরে তোমার বিশ্বাস বেশি ? নন্দিনী । তোমাদের ঐ ধ্বজদণ্ডের দেবতা, সে কোনোদিনই নরম হবে না । কিন্তু জালের আড়ালের মানুষ চিরদিনই কি জালে বাধা থাকবে । যাও যাও, যাও । মানুষের প্রাণ ছিড়ে নিয়ে তাকে নাম দিয়ে ভোলাবার র্যাবসা তোমার । [গোসাঁইয়ের প্রস্থান ফাগুলাল ও চন্দ্রর প্রবেশ ফাগুলাল । বিশু তোমার সঙ্গে এল, সে এখন কোথায় । সত্য করে বলো । নন্দিনী । তাকে বন্দী করে নিয়ে গেছে । চন্দ্ৰা । রাক্ষসী, তুই তাকে ধরিয়ে দিয়েছিস ! তুই ওদের চর। নন্দিনী । কোন মুখে এমন কথা বলতে পারলে। চন্দ্ৰা । নইলে এখানে তোর কী কাজ । কেবল সবার মন ভুলিয়ে ভুলিয়ে ঘুরে বেড়াস। ফাগুলাল । এখানে সবাই সবাইকে সন্দেহ করে, কিন্তু তবু তোমাকে আমি বিশ্বাস করে এসেছি। মনে মনে তোমাকে- সে কথা থাক । কিন্তু আজ কেমনতরো ঠেকছে যে ৷ ” নন্দিনী । হবে, তা হবে । আমার সঙ্গে এসেই বিপদে পড়েছে। তোমাদের কাছে নিরাপদে থাকত, সে কথা নিজেই বললে । চন্দ্ৰা । তবে কেন আনলি ওকে ভুলিয়ে সর্বনাশী ! নন্দিনী । ও-যে বললে, ও মুক্তি চায়। চন্দ্ৰা । ভালো মুক্তি দিয়েছিস ওকে । নন্দিনী । আমি তো ওর সব কথা বুঝতে পারি নে, চন্দ্ৰা ৷৷ ও কেন আমাকে বললে, বিপদের তলায় তলিয়ে গিয়ে তবে মুক্তি। ফাগুলাল, নিরাপদের মারি থেকে মুক্তি চায় যে-মানুষ, আমি তাকে বাচােব কী করে । চন্দ্ৰা । ও-সব কথা বুঝি নে। ওকে ফিরিয়ে যদি না আনতে পারিস মরবি, মরবি । তোর ঐ সুন্দরপানা মুখখানা দেখে আমি ভুলি নে । ফাগুলাল। চন্দ্ৰা, মিছে বিকাবিকি করে কী হবে। কারিগরপাড়া থেকে দলবল জুটিয়ে আনি । বন্দীশালা চুরমার করে ভাঙিব । নন্দিনী । আমি যাব তোমাদের সঙ্গে । ফাগুলাল । কী করতে যাবে। নন্দিনী । ভাঙতে যাব । চন্দ্ৰা । ওগো, অনেক ভাঙন ভেঙেছ মায়াবিনী । আর কােজ নেই।