পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৪২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 Obr রবীন্দ্র-রচনাবলী নীরবালা । হা । সুখ দেখিয়ে দেব । তুমি থাক হােগলার ঘরে, আর পরের দালানে আগুন লাগাতে চাও ? আমাদের হাতে টিকে নেই ? আমাদের সঙ্গে যদি লােগ তা হলে তোমার দু-দুটাে বিয়ে দিয়ে দেব ; মাথায় যে-কটি চুল আছে সামলাতে পারবে না। রসিক । দেখা দিদি, দুটাে আস্ত জন্তু এনেছিলুম বলেই তো রক্ষে পেলি, যদি মধ্যম রকমের হত তা হলেই তো বিপদ ঘটত। যাকে জন্তু বলে চেনা যায় না। সেই জন্তুই ভয়ানক । অক্ষয় । সে কথা ঠিক । মনে মনে আমার ভয় ছিল, কিন্তু একটু পিঠে হাত বুলোবামাত্র চাটুপটু শব্দে লেজ নড়ে উঠল । কিন্তু, মা বলছেন কী । রসিক । সে যা বলছেন সে আর পাচজনকে ডেকে ডেকে শোনাবার মতো নয় । সে আমি অন্তরের মধ্যেই রেখে দিলুম। যা হােক, শেষে এই স্থির হয়েছে, তিনি কাশীতে র্তার বোনপোর কাছে যাবেন, সেখানে পাত্রেরও সন্ধান পেয়েছেন, তীর্থদর্শনও হবে । নীরবালা । বল কী রসিকদাদা । তা হলে এখানে আমাদের রোজ রোজ নতুন নতুন নমুনো দেখা বন্ধ ? নৃপবালা । তোর এখনো শখ আছে নাকি । নীরবালা । এ কি শখের কথা হচ্ছে। এ হচ্ছে শিক্ষা । রোজ রোজ অনেকগুলি দৃষ্টান্ত দেখতে দেখতে জিনিসটা সহজ হয়ে আসবে ; যেটিকে বিয়ে করবি সেই প্ৰাণীটিকে বুঝতে কষ্ট হবে না । নৃপবালা । তোমার প্রাণীকে তুমি বুঝে নিয়ো, আমার জন্যে তোমার ভাবতে হবে না। নীরবালা । সেই কথাই ভালো- তুইও নিজের জন্যে ভাবিস, আমিও নিজের জন্যে ভাবিব, কিন্তু রসিকদাদাকে আমাদের জন্যে ভাবতে দেওয়া হবে না । [নুপ ও নীরর প্রস্থান শৈলবালার প্রবেশ শৈলবালা । রসিকদাদা, তোমার সঙ্গে আমার পরামর্শ আছে । অক্ষয় । আঁ্যা, শৈল, এই বুঝি ! আজ রসিকদা হলেন রাজমন্ত্রী ! আমাকে ফাকি ! শৈলবালা । (হাসিয়া) তোমার সঙ্গে আমার কি পরামর্শের সম্পর্ক মুখুজেমশায়। পরামর্শ যে বুড়ো না ठूgठा झझ न्मा । অক্ষয় । তবে রাজমন্ত্রীপদের জন্যে আমার দরবার উঠিয়ে নিলুম। গান আমি কেবল ফুল জোগাব তোমার দুটি রাঙা হাতে, বুদ্ধি আমার খেলে নাকো পাহারা বা মন্ত্রণাতে । শৈলবালা । রসিকদাদা, আমরা যে চিরকুমার-সভার সভ্য হব- তুমি আমার বাহন হবে । রসিক । ভগবান হরি নারীছদ্মবেশে পুরুষকে ভুলিয়েছিলেন, তুই শৈল যদি পুরুষ ছদ্মবেশে, পুরুষকে ভোলাতে পারিস তা হলে হরিভক্তি উড়িয়ে দিয়ে তোর পুজোতেই শেষ বয়সটা কাটাব। কিন্তু, মা যদি টের পান ? শৈলবালা । তিন কন্যাকে কেবলমাত্র স্মরণ করেই মা মনে মনে এত অস্থির হয়ে ওঠেন যে, তিনি আমাদের আর খবর রাখতে পারেন না । তার জন্যে ভেবো না । রসিক । কিন্তু, সভায় কিরকম করে সভ্যতা করতে হয় সে আমি কিছুই জানি নে । শৈলবালা । আচ্ছা, সে আমি চালিয়ে নেব । আবেদনপত্রের সঙ্গে প্ৰবেশিকার দশটা টাকা পাঠিয়ে দিয়ে বসে আছি । রসিকদা, তোমার তো মার সঙ্গে কাশী গেলে চলবে না । অক্ষয় । মার সঙ্গে কাশী যাবাব জন্যে আমি লোক ঠিক করে দেব এখন, সেজন্যে ভাবনা নেই।