পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৪৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88 রবীন্দ্র-রচনাবলী রসিক । (টাকে হাত বুলাইতে বুলাইতে) তা, মা, যেটুকু বুদ্ধি আছে তার পরিচয় সর্বদাই দিচ্ছি, ও তো চেপে রাখবার জো নেই- ধরা পড়তেই হবে । ভাঙা চাকাটাই সব চেয়ে খড়, খড় করে, তিনি যে ভাঙা সেটা পাড়াসুদ্ধ খবর পায়। সেইজন্যেই বড়োমা, চুপচাপ করে থাকতেই চাই, কিন্তু তুমি যে আবার bar:TINSes VRM RN | জগত্তারিণী । আমি তা হলে হারানের বাড়ি চললুম, একেবারে তাদের সঙ্গে গাড়িতে উঠিব ; এর পরে আর যাত্রার সময় নেই। পুরো, তোরা তো দিন ক্ষণ মানিস নে, ঠিক সময়ে ইস্টেশনে যাস । পুরবালা। মা, আমি কাশী যাব না। । হঠাৎ তাহার অসম্মতিতে বিপন্ন হইয়া জগত্তারিণী তাহার জামাতার মুখের দিকে চাহিলেন অক্ষয় । (শাশুড়ির মনের ভাব বুঝিয়া) সে কি হয় । তুমি মার সঙ্গে না গেলে ওঁর অসুবিধে হবে । আচ্ছা মা, তুমি এগোও, আমি ওকে ঠিক সময়ে স্টেশনে নিয়ে যাব। জগত্তারিণী নিশ্চিন্ত হইয়া প্ৰস্থান করিলেন । রসিকদাদা টাকে হাত বুলাইতে বুলাইতে বিদায়কালীন রিমাৰ্যতা মুখে আনিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন পুরুষবেশধারী শৈলের প্রবেশ অক্ষয় । কে মশায় । আপনি কে ? শৈলবালা । আজ্ঞে মশায়, আপনার সহধর্মিণীর সঙ্গে আমার বিশেষ সম্বন্ধ আছে। (অক্ষয়ের সঙ্গে শেকহ্যান্ড) মুখুজেমশায়, চিনতে তো পারলে না ? পুরবালা । অবাক করলি । লজ্জা করছে না ? শৈলবালা । দিদি, লজা যে স্ত্রীলোকের ভূষণ- পুরুষের বেশ ধরতে গেলেই সেটা পরিত্যাগ করতে হয় । তেমনি আবার মুখুজেমশায় যদি মেয়ে সাজেন উনি লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবেন না। রসিকদাদা চুপ করে রইল যে ? রসিক । আহা, শৈল যেন কিশোর কন্দৰ্প । যেন সাক্ষাৎ কুমার, ভবানীর কোল থেকে উঠে এল । ওকে বরাবর শৈল বলে দেখে আসছি, চোখের অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল ; ও সুন্দরী কি মাঝারি কি চলনসই। সে কথা কখনো মনেও ওঠে নি- আজ ঐ বেশটি বদল করেছে বলেই তো ওর রূপখানি ধরা দিলে । পুরোদিদি, লজ্জার কথা কী বলছিস, আমার ইচ্ছে করছে ওকে টেনে নিয়ে ওর মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করি । অক্ষয় । (মোহাভিষিক্ত গভীর্যের সহিত ছদ্মবেশিনীকে ক্ষণকাল নিরীক্ষণ করিয়া) সত্যি বলছি শৈল, তুমি যদি আমার শ্যালী না হয়ে আমার ছোটাে ভাই হতে তা হলেও আমি আপত্তি করতুম না। শৈলবালা । (ইষৎ বিচলিত হইয়া) আমিও না মুখুজেমশায় । পুরবালা। (শৈলকে বুকের কাছে টানিয়া) এই বেশে তুই কুমার-সভার সভ্য হতে যাচ্ছিস ? শৈলবালা । অন্য বেশে হতে গেলে যে ব্যাকরণের দোষ হয় দিদি । কী বল রসিকদাদা । রসিক । তা তো বটেই, ব্যাকরণ বঁচিয়ে তো চলতেই হবে । ভগবান পাণিনি বোপদেব ঐরা কী জন্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ভাই, শ্ৰীমতী শৈলবালার উত্তর চাপকন প্রত্যয় করলেই কি ব্যাকরণ রক্ষে হয় । অক্ষয় । নতুন মুগ্ধবোধে তাই লেখে। আমি লিখে পড়ে দিতে পারি, চিরকুমার-সভার মুগ্ধদের কাছে শৈল যেমন প্ৰত্যয় করাবে তারা তেমনি প্ৰত্যয় যাবেন । কুমারদের ধাতু আমি জানি কিনা । পুরবালা । (একটুখানি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া) তোর মুখুজেমশায়কে আর এই বুড়ো সমবয়সীটিকে নিয়ে তোর খেলা তুই আরম্ভ করা- আমি মাের সঙ্গে কাশী চললুম।