পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৪৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা 8\Oς শ্ৰীশ । এ বাড়ির দরজায় ঢুকতেই রসিক চক্রবর্তী বলে যে বৃদ্ধ যুবকটির সঙ্গে দেখা হল তাকে চিরকুমার-সভার দ্বারীর উপযুক্ত বলে বোধ হল না। বিপিন । মনে হল শিবের তপোবন আগলাবার জন্য স্বয়ং পঞ্চশর নদীর ছদ্মবেশে এসেছেন, লোকটাকে বিশ্বাসযোগ্য ঠেকছে না । 53 eK চন্দ্ৰবাবু। আজকের তর্কবিতর্কের উত্তেজনায় পূৰ্ণবাবুর হঠাৎ শরীর খারাপ হল দেখে, আমি তাকে তার বাড়ি পৌঁছে দেওয়া উচিত বোধ করলুম। বিপিন। পূৰ্ণবাবুর যেরকম দুর্বল অবস্থা দেখছি পূর্ব হতেই তার বিশেষ সাবধান হওয়া উচিত ছিল। চন্দ্ৰবাবু। পূৰ্ণবাবুকে তো বিশেষ অসাবধান বলে বোধ হয় না। অক্ষয় ও রসিকের প্রবেশ অক্ষয় । মাপ করবেন । এই নবীন সভ্যটিকে আপনাদের হাতে সমর্পণ করে দিয়েই আমি চলে যাচ্ছি। রসিক । (হাসিয়া) আমার নবীনতা বাইরে থেকে বিশেষ প্ৰত্যক্ষগোচর নয় অক্ষয় । অত্যন্ত বিনয়বশত সেটা বাহ্য প্রাচীনতা দিয়ে ঢেকে রেখেছেন- ক্রমশ পরিচয় পাবেন । ইনিই হচ্ছেন। সার্থকনামা শ্ৰীীরসিক চক্রবর্তী । রসিক । পিতা আমার রসবোধ সম্বন্ধে পরিচয় পাবার পূর্বেই রসিক নাম রেখেছিলেন, এখন পিতৃসত্যপালনের জন্য আমাকে রসিকতার চেষ্টা করতে হয়, তার পরে যত্নে কৃতে যদি না সিধতি কোহিত্র দোষঃ’ । [অক্ষয়ের প্রস্থান পুরুষবেশী শৈলের প্রবেশ শৈল আসিয়া সকলকে নমস্কার করিল ( ক্ষীণদৃষ্টি চন্দ্ৰমাধববাবুঝাপসাভাবে তাহাকে দেখিলেনবিপিন ও শ্ৰীশ তাহার দিকে চাহিয়া রহিল। শৈলের পশ্চাতে দুইজন ভৃত্য কয়েকটি ভোজনপত্র হাতে করিয়া উপস্থিত হইল শৈল ছোটাে ছোটো রুপার থালাগুলি লইয়া সাদা পাথরের টেবিলের উপর সাজাইতে লাগিল রসিক । ইনি আপনাদের সভার আর-একটি নবীন সভ্য । এর নবীনতা সম্বন্ধে কোনো তর্ক নেই। ঠিক আমার বিপরীত । ইনি বুদ্ধির প্রবীণতা বাহ্য নবীনতা দিয়ে গোপন করে রেখেছেন। আপনারা কিছু বিস্মিত হয়েছেন দেখছি- হবার কথা । এঁকে দেখে মনে হয়। বালক, কিন্তু আমি আপনাদের কাছে জামিন রইলুম- ইনি বালক নন। চন্দ্রবাবু। ঐর নাম ? রসিক । শ্ৰীঅবলাকান্ত চট্টোপাধ্যায় । শ্ৰীশ । অবিলাকান্ত ? রসিক । নামটি আমাদের সভায় চলতি হবার মতো নয়। স্বীকার করি । নামটির প্রতি আমারও বিশেষ মমত্ব নেই- যদি পরিবর্তন করে বিক্রমসিংহ বা ভীমসেন বা অন্য কোনো উপযুক্ত নাম রাখেন তাতে উনি আপত্তি করবেন না। যদিচ শাস্ত্ৰে আছে বটে ‘স্বনাম পুরুষো ধন্য- কিন্তু উনি অবলাকান্ত নামটির দ্বারাই জগতে পৌরুষ অর্জন করতে ব্যাকুল নন । শ্ৰীশ । বলেন কী মশায় । নাম তো আর গায়ের বস্ত্ৰ নয় যে, বদল করলেই হল । রসিক । ওটা আপনাদের একেলে সংস্কার শ্ৰীশবাবু, নামটাকে প্রাচীনেরা পোশাকের মধ্যেই গণ্য করতেন । দেখুন-না কেন, অর্জনের পিতৃদত্ত নাম কী ঠিক করে বলা শক্ত- পার্থ ধনঞ্জয়, সব্যসাচী, লোকের যখন যা মুখে আসত তাই বলেই ডাকত। দেখুন, নামটাকে আপনারা বেশি সত্য মনে করবেন। নী ; ওঁকে যদি ভুলে আপনি অবলাকান্ত নাও বলেন উনি লাইবেলের মকদ্দমা আনবেন না।