পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মহুয়া ছায়ার আসন মেলি ; পরি লয় নূতন সবুজ রঙা চেলি, চক্ষুপাতে লাগায় অঞ্জন, বক্ষে করে কদম্বের কেশর রঞ্জন । দিগন্তের অভিষেকে বাতাস অরণ্যে ফিরি নিমন্ত্রণ যায় হেঁকে হেঁকে ৷ ” যেদিন প্ৰণয়ী বক্ষতলে মিলনের পাত্ৰখানি ভরে অকারণ অশ্রািজলে, কবির সংগীত বাজে গভীর বিরহে ।— নহে নহে, সেদিন তো নহে । সে কি তবে ফায়ুনের দিনে, যেদিন বাতাস ফিরে গন্ধ চিনে চিনে সবিস্ময়ে বনে বনে, শুধায় সে মল্লিকারে কাঞ্চন-রঙ্গনে, তুমি কবে এলে । নাগকেশরের কুঞ্জ কেশর ধুলায় দেয় ফেলে ঐশ্বৰ্যগৌরবে । द5ढजन्मद অজস্র মিশায় বিহঙ্গম ফুলের বর্ণের সঙ্গে ধ্বনির সংগম ; অরণ্যের শাখায় শাখায় প্ৰজাপতিসংঘ আনে পাখায় পাখায় চিত্রলিপি, কুসুমেরি বিচিত্র অক্ষরে ; ধরণী যৌবনগর্বভরে আকাশেরে নিমন্ত্রণ করে যবে । উদাম উৎসবে ; কবির বীণার তন্ত্র যে বসন্তে ছিড়ে যেতে চাহে প্ৰমত্ত উৎসাহে । আকাশে বাতাসে বর্ণের গন্ধের উচ্চহাসে ধৈৰ্য নাহি রহে - নহে নহে, সেদিন তো নহে । যেদিন আশ্বিনে শুভক্ষণে আকাশের সমারোহ ধরণীতে পূর্ণ হয় ধনে । প্রাচুর্যপ্ৰশান্ত তট পেয়েছে সঙ্গিনী তরঙ্গিণীতপস্বিনী সে-যে, তার গভীর প্রবাহে সমুদ্রবন্দনাগান গাহে । \ԾԳ