পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৪৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা 8ዒ S অক্ষয় । নৃশংসে, বিরহদাবদগ্ধ তোর দিদিকে আবার বিরহে জ্বালাতে চাস ? তোদের ভগ্নীপতিরূপ ঘনকৃষ্ণ মেঘ মিলনরূপ মুষলধারাবর্ষণ-দ্বারা প্রিয়ার চিত্তরূপ লতানিকুঞ্জে আনন্দরূপ কিশলয়োদগম করে প্ৰেমরূপ বর্ষায় কটাক্ষরাপ বিদ্যুৎ নীরবালা । এবং বকুনিরূপ ভেকের কলরব শৈলবালার প্রবেশ অক্ষয় । এসো এসো- উত্তমাধ্যমমধ্যমা এই তিন শ্যালী না হলে আমার নীরবালা । উত্তমমধ্যম হয় না । শৈলবালা । (নৃপ ও নীরর প্রতি) তোরা ভাই, একটু যা তো, আমাদের কথা আছে। অক্ষয় । কথাটা কী বুঝতে পারছিস তো নীরু ? হরিনাম-কথা নয় । নীরবালা । আচ্ছা, তোমার আর বকতে হবে না । [নীপ ও নীরর প্রস্থান শৈলবালা । দিদি, নৃপ-নীরর জন্যে মা দুটি পাত্র তা হলে স্থির করেছেন ? পুরবালা । হা, কথা একরকম ঠিক হয়ে গেছে । শুনেছি ছেলে দুটি মন্দ নয়— তারা মেয়ে দেখে পছন্দ করলেই পাকাপাকি হয়ে যাবে । শৈলবালা । যদি পছন্দ না করে ? পুরবালা । তা হলে তাদের অদৃষ্ট মন্দ । অক্ষয় । এবং আমার শ্যালী দুটির অদৃষ্ট ভালো । শৈলবালা । নৃপ নীরু যদি পছন্দ না করে ? অক্ষয় । তা হলে ওদের রুচির প্রশংসা করব । পুরবালা । পছন্দ আবার না করবে। কী ? তোদের সব বাড়াবাড়ি, স্বয়ম্বরার দিন গেছে। মেয়েদের পছন্দ করবার দরকার হয় না । স্বামী হলেই তাকে ভালোবাসতে পারে । অক্ষয়। নইলে তোমার বর্তমান ভগ্নপতির কী দুৰ্দশাই হত শৈল ! জগত্তারিণীর প্রবেশ জগত্তারিণী । বাবা অক্ষয়, ছেলে দুটিকে তা হলে তো খবর দিতে হয় । তারা তো আমাদের বাড়ির ঠিকানা জানে না । অক্ষয় । বেশ তো মা, রসিকদাদাকে পাঠিয়ে দেওয়া যাক । জগত্তারিণী । পোড়া কপাল । তোমার রসিকদাদার যেরকম বুদ্ধি । তিনি কাকে আনতে কাকে আনবেন ঠিক নেই । পুরবালা । তা মা, তুমি কিছু ভেবো না । ছেলে দুটিকে আনবার ব্যবস্থা করে দেব। জগত্তারিণী । মা পুরী, তুই একটু মনোযোগ না করলে হবে না। আজকালকার ছেলে, তাদের সঙ্গে কিরকম ব্যাভার করতে হয় না-হয় আমি কিছুই বুঝি নে । অক্ষয় । (জনাস্তিকে) পুরীর হাতযশা আছে । পুরী তার মার জন্যে যে জামাইটি জুটিয়েছেন, পসার খুব বেড়ে গেছে । আজকালকার ছেলে কী করে বশ করতে হয় সে বিদ্যে পুরবালা । (জনাস্তিকে) মশায় বুঝি আজকালকার ছেলে। জগত্তারিণী। মা, তোমরা পরামর্শ করে। কয়েৎদিদি এসে বসে আছেন, আমি তাকে বিদায় করে আসি । শৈলবালা । মা, তুমি একটু বিবেচনা করে দেখো, ছেলে দুটিকে এখনো তোমরা কেউ দেখ নি, হঠাৎজগত্তারিণী । বিবেচনা করতে করতে আমার জন্ম শেষ হয়ে এল, আর বিবেচনা করতে পারি নে