পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মহুয়া চিহ্নহীন পথে । এসেছিল দ্বারের সম্মুখে মোর ক্ষণতরে । তখনো রজনী মম হয় নাই ভোর, হৃদয় অস্ফুট ছিল অর্ধ জাগরণে। ডাকে নি সে নাম ধরে, দুয়ারে করে নি করাঘাত, গেছে মিশে সমুদ্রতরঙ্গারবে তাহার অশ্বের হেষাধবনি । হে বীর অপরিচিত, শেষ হল আমার রজনী, জানা তো হল না কোন দুঃসাধ্যের সাধন লাগিয়া অস্ত্ৰ তব উঠিল ঝঞানি । আমি রহিনু জাগিয়া । ৩১ অগস্ট ১৯২৮ আহবান কোথা আছি ! ডাকি আমি । শোনো, শোনো, আছে প্ৰয়োজন একান্ত আমারে তবে । আমি নহি তোমার বন্ধনপথের সম্বল মোর প্রাণে ! দুৰ্গমে চলেছ তুমি নীরস নিষ্ঠুর পথে— উপবাসহিংস্ৰ সেই ভূমি আতিথ্যবিহীন ; উদ্ধত নিষেধদণ্ড রাত্রিদিন উদ্যত করিয়া আছে উর্ধর্ব-পানে । আমি ক্লান্তিহীন সেই সঙ্গ দিতে পারি, প্ৰাণবেগে বহন যে করে শুশ্রুষার পূর্ণশক্তি আপনার নিঃশঙ্ক অন্তরেযথা রুক্ষ রিক্তবৃক্ষ শৈলবাক্ষ ভেদি অহরহ দুৰ্দাম নিৰ্ব্বরে ঢালে দুনিবার সেবার আগ্ৰহ, শুকায় না রসবিন্দু প্রখর নির্দয় সূৰ্যতেজে, নীরস প্রস্তরমুষ্টিতলে দৃঢ়বলে রাখে সে-যে অক্ষয় সম্পদরাশি । সহস্য উজ্জ্বল গতি তার দুর্যোগে অপরাজিত, অবিচল বীর্যের আধার। ১ সেপ্টেম্বর ১৯২৮ বাপী একদা বিজনে যুগল তরুর মূলে তৃষ্ণার জল তুমি দিয়েছিলে তুলে । আর কোনোখানে ছায়া নাহি দেখি, শুধালেম, কাছে বসিতে দিবে কি । সেদিন তোমার ঘরে ফিরিবার বেলা বহে গেল বুঝি, কাজে হয়ে গেল হেলা ।