পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৬৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


We8O রবীন্দ্ৰ-রচনাবলী পিতাকে ; সেই তার পিতার বোধের মধ্যেই তার আপনার বোধ সত্য হবে, তার বিশ্বের সম্বন্ধ সম্পূর্ণ হবে। এ ডােক সমাজের ডাক নয়, সম্প্রদায়ের ডাক নয়, এ ডাক অন্তরাত্মার ডাক । এ ডাক কুলশীলের ডাক নয়, মানসম্রামের ডাক নয়, এ ডাক সন্তানের ডাক । এই একটিমাত্র ডাকেই সকল সন্তানের কণ্ঠ এক সুরে মেলে, এই “পিতা নোহসি । তাই এ ডাকের সঙ্গে কোনো অহংকার কোনো সংস্কারকে মেলাতে গেলেই এই পরম সংগীতকে এক মুহুর্তেই বেসুরো করা হবে ; তাতে আত্মা পীড়িত হবে এবং, হে পরমাত্মন, তাতে তোমাকেই বেদনা দেওয়া হবে, যে তুমি সকল সন্তানের ব্যথার ব্যাখী । তাই তোমার কাছে অন্তরের এই অন্তরতম প্রার্থনা, যেন নত হই, নত হই। সেই নতি দীনতার নতি নয়, সে যে পরম পরিপূর্ণতার প্রণতি । তোমার কাছে সেই একান্ত নমস্কার আত্মসমর্পণের পরমৈশ্বর্য। আমাদের সেই নমস্কার সত্য হােক, সত্য হােক ; অহং শান্ত হােক, অহংকার ক্ষয় হােক, ভেদবুদ্ধি দূর হােক, পিতার বোধ পূর্ণ হােক এবং বিশ্বভুবনে সন্তানের প্রণামের সঙ্গে পিতার বিগলিত আনন্দধারা সম্মিলিত হােক । =भogg |- সকল দেহ লুটিয়ে পড়ুক তোমার এ সংসারে একটি নমস্কারে প্রভু, একটি নমস্কারে । ঘন শ্রাবণমেঘের মতো রিসের ভারে নতুন নত সমস্ত মন থাক পড়ে থাক তব ভবনদ্বারে একটি নমস্কারে প্রভু, একটি নমস্কারে । নানা সুরের আকুল ধারা মিলিয়ে দিয়ে আত্মহারা সমস্ত গান সমাপ্ত হোক নীরব পারাবারে একটি নমস্কারে প্রভু, একটি নমস্কারে । হংস যেমন মানসহযাত্রী তেমনি সারা দিবসরাত্রি সমস্ত প্ৰাণ উড়ে চলুক মরণপরিপারে একটি নমস্কারে প্রভু, একটি নমস্কারে } N53 SS Ne Sv) Str कॉन >७२० সৃষ্টির অধিকার দিন তো যাবেই ; এমনি করেই তো দিনের পর দিন গিয়েছে। কিন্তু, সব মানুষেরই ভিতরে এই একটি বেদন রয়েছে যে, যেটা হবার সেটা হয় নি । দিন তো যাবে, কিন্তু মানুষ কেবলই বলেছে : হবে, আমার যা হবার তা আমাকে হতেই হবে, এখনো তার কিছুই হয় নি। তাই যদি না হয়ে থাকে। তবে মানুষ আর কিসের মানুষ, পশুর সঙ্গে তার পার্থক্য কোথায় ! পশু তার প্রাত্যহিক জীবনে তার যে-সমস্ত প্ৰবৃত্তি রয়েছে তাদের চরিতার্থতা সাধন করে যাচ্ছে, তার মধ্যে তো কোনো বেদনা নেই। এখনো যা হয়ে ওঠবার তা হয় নি, এ কথা তো তার কথা নয়। কিন্তু মানুষের জীবনের সমস্ত কর্মের ভিতরে ভিতরে এই বেদনটি রয়েছে- হয় নি, যা হবার তা হয় নি। কী হয় নি। আমি যা হব বলে পৃথিবীতে এলুম। তাই যে হলুম না, সেই হবার সংকল্প যে জোর করে নিতে পারলুম না। আমার পথ আমি নেব, আমার যা হবার আমি তাই হব, এই কথাটি জোর করে বলতে পারলুম না বলেই এই বেদনা জেগে উঠছে যে হয় নি, হয় নি, দিন আমার বৃথাই বয়ে যাচ্ছে। গাছকে পশুপক্ষীকে তো এ সংকল্প করতে হয় না, মানুষকেই এই কথা বলতে হয়েছে যে আমি হব । যতক্ষণ পর্যন্ত এ সংকল্পকে সে দৃঢ়ভাবে ধরতে পারছে না, এই কথা সে জোর করে বলতে পারছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ পশুপক্ষী-তরুলতার সঙ্গে সমান। কিন্তু ভগবান তাকে তাদের সঙ্গে সমান হতে দেবেন।