পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৬৭৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


やう2やう রবীন্দ্র-রচনাবলী পড়ে।”- এই বাণী কি আসে নি। এ কথা তিনি শোনান নি ?-- শৃশ্বস্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্ৰাঃ আ যে ধামানিদিব্যানি তন্তুঃ।। শোনো, তোমরা অমৃতের পুত্ৰ, তোমরা দিব্যধামবাসী। তোমাদের এই অন্ধকারের মধ্যে সেই পরপর থেকে আলোক আসছে। সেইখন থেকে যে আলোক আসছে তাতে জাগ্রত হও ; বসে বসে চকমকি ঠুকলে দিনকে সৃষ্টি করতে পারবে না। সেই আলোকে যে নব নব দিন অমৃতের বার্তা নিয়ে আসছে। নব নব লীলায় সব নূতন নূতন হয়ে উঠছে। দুঃখের ভিতর দিয়ে আনন্দ আসছে, রক্তস্রোতের উপর জীবনের শ্বেত শতদল ভেসে উঠছে। সেই অমৃতের মধ্যে ডুব দাও, তবেই হে বৃদ্ধ, কাননে যে ফুল এইমাত্র ফুটেছে তুমি তার সমবয়সী হবে ; আজ ভোরে পূর্বাশার কোলে যে তরুণ সূর্যের জন্ম হয়েছে, হে প্ৰবীণ, তোমার বয়স তার সঙ্গে মিলবে। বেরিয়ে এসো সেই আনন্দলোকে, সেই মুক্তির ক্ষেত্রে। ভেঙে ফেলো বাধাবিপত্তিকে, নিত্যনূতনের অমৃতলোকে বেরিয়ে এসো। সেই অমৃতসাগরের তীরে এসে অকুলের হাওয়া নিই, সত্যকে দেখি । সত্যকে নিমুক্ত আলোকের মধ্যে দেখি। সেই সত্য যা নিশীথের সমস্ত তারকার প্রদীপমালা সাজিয়ে আরতি করছে, সেই সত্য যা সূর্যের উদয় থেকে অস্ত পর্যন্ত সাক্ষীর মতো সমস্ত দেখছে। নব নব নবীনতার সেই জ্ঞানময় সত্য যার মধ্যে প্রাণের বিরাম নেই, জড়তার লেশ নেই, যার মধ্যে সমস্ত চৈতন্য পরিপূর্ণ। ওরে সংকীর্ণ ঘরের অধিবাসী, ঘরের দরজা ভেঙেচুরে ফেলে দাও । আমরা উৎসবের দেবতাকে দর্শন করে মনুষ্যত্বের জয়তিলক ঐকে নেব, আমরা নূতন বর্ম পরিধান করব। আমাদের সংগ্ৰাম মৃত্যুর সঙ্গে । নিন্দা-অবমাননাকে তুচ্ছ করে অসত্যের সঙ্গে অন্যায়ের সঙ্গে সেই যুদ্ধ করবার অধিকার তিনি দিয়েছেন । এই অভয় বাণী আমরা পেয়েছি শৃথন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্ৰাঃ আ যে দিব্যানি ধামানিতস্থঃ { এই কথা বলবার দিন আজ এই ভারতবর্ষেরই এসেছে। আজ প্রতাপে মন্দোন্মত্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে মানুষ বিদ্রোহের ধ্বজা তুলেছে- আমরা যত ছোটাে হই সেই বল সংগ্ৰহ করব যাতে তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলতে পারি, না, এ নয়, তোমরা দিব্যধামবাসী অমৃতের পুত্ৰ, তোমরা মৃত্যুর পুত্র নও। যে ধনমান পায় নি। সেই জোরের সঙ্গে বলতে পারে ; আমি সত্যকে পেয়েছি ; আমার ঐশ্বৰ্য নেই, গীেরব নেই, আমার দারিদ্র্য-অবমাননার সীমা নেই, কিন্তু আমার এমন অধিকার রয়েছে যার থেকে আমায় কেউ বঞ্চিত করতে পারে না। আমাদের আর-কিছু নেই বলেই এ কথা আমাদের মুখে। যেমন শোনাবে এমন আর কারও মুখে নয়। পৃথিবীর মধ্যে লাহিত আমরা, আমরা বলব আমরা অমৃতের পুত্ৰ— এবং আমরাই বলছি যে, তোমরাও অমৃতের পুত্র। আজ উৎসবের দিনে এই সুরটি আমাদের কানে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশের অপমান দারিদ্র্য অত্যন্ত স্বচ্ছ, সেইজন্যই সত্য আমাদের কাছে প্ৰকাশ পেতে বাধা পাবে না, সে একেবারে নগ্ন হয়ে দেখা দেবে। পাথরের হর্ম্য গড়ে তুলে আমরাও আকাশের আলোককে নিরুদ্ধ করব না, আমাদের নিরাশ্রয় দীনের কণ্ঠে বড়ো মধুর সুরে বাজবে শৃশ্বন্ত বিশ্বে অমৃতস্য পুত্ৰাঃ আ যে দিব্যানি ধামানি তছুঃ। y» RK yv0S, eV5KKqFor ফাল্গুন ১৩২১