পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৭৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


So রবীন্দ্র-রচনাবলী খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, সম্পত্তি-সমৰ্পণ ও কঙ্কাল ‘বিচিত্র গল্প প্ৰথম ভাগে (১৩০১) এবং দালিয়া ও মুক্তির উপায় ‘বিচিত্র গল্প” দ্বিতীয় ভাগে (১৩০১) সংকলিত হয় ; গ্রন্থমধ্যে সেই উহাদের প্রথম Sps “মুক্তির উপায়’ গল্প অবলম্বনে লিখিত ঐ নামের নাটক “অলকা (আশ্বিন ১৩৪৫) মাসিক পত্রে মুদ্রিত হইয়াছিল, অধুনা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হইয়াছে । মুক্তির উপায় নাটক প্রচলিত রবীন্দ্র-রচনাবলী ষড়বিংশ খণ্ডে (সুলভ সংস্করণ ত্ৰয়োদশ খণ্ডে) সংকলিত । প্ৰচলিত চতুর্থ খণ্ড তথা অখণ্ড গল্পগুচ্ছের শেষে অন্যান্য বহু তথ্য সংকলিত । শান্তিনিকেতন বর্তমান খণ্ডে শান্তিনিকেতন গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ অনুসারে একাদশ খণ্ড হইতে সপ্তদশ খণ্ড মুদ্রণের ফলে এই রচনাপর্যায় সমাপ্ত হইল । শান্তিনিকেতন ১৯০৯ হইতে ১৯১৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ছোটাে ছোটাে পুস্তিকার আকারে সতেরো খণ্ডে প্রকাশিত হয় । ১৩১৫ সালের অগ্রহায়ণ হইতে ১৩২১ সালের মাঘ পর্যন্ত শান্তিনিকেতনের মন্দিরে ও অন্যত্র নানা অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ যে-সকল উপদেশ দিয়াছিলেন, তাহার অধিকাংশই এই সতেরো খণ্ডে সংগৃহীত হইয়াছিল ; কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাষণের তারিখও মুদ্রিত আছে । রচনাগুলির সাময়িক পত্রে প্রকাশের কাল সব সময়ে পাওয়া যায় না ; যে-সকল ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়াছে (প্রবাসী, ভারতী অথবা তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় পাওয়া যায়) তাহা রচনা শেষে স্বতন্ত্র ছত্ৰে সংকলিত হইল । বর্তমানে প্রচলিত দ্বিতীয়-খণ্ড শান্তিনিকেতনের গ্রন্থপরিচয়ে গ্ৰন্থ সংকলিত রচনা সম্পর্কে নানা তথ্য ও প্রথমমুদ্রণপঞ্জী মুদ্রিত হইয়াছে। রবীন্দ্রনাথ-কর্তৃক “সংশোধিত ও নির্বাচিত যে বিশ্বভারতী-সংস্করণ শান্তিনিকেতন ১৩৪১-৪২ সালে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়, তাহাতে অন্যান্য খণ্ডের কয়েকটি উপদেশের সহিত একাদশ ও দ্বাদশ খণ্ডের “দুর্লভ’, ‘মাতৃশ্ৰাদ্ধা’, ‘সামঞ্জস্য”— এই তিনটি সম্পূর্ণ ব্যাখ্যান এবং ‘জাগরণ’-এর শেষার্ধ বর্জিত হইয়াছে । শান্তিনিকেতন ত্রয়োদশ খণ্ডে প্ৰকাশিত “আত্মবোধ’ সম্বন্ধে রবীন্দ্ৰনাথ নির্মলচন্দ্ৰ দে’কে একটি ििठेOङ ििथशाgछन् আত্মবোধ প্ৰবন্ধটা এখানে আমার সম্মুখে নাই, এইজন্য আপনারা যে বিশেষ অংশটির কথা উত্থাপন করিয়াছেন তাহার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করিতে পারিলাম না। আত্মবোধের শেষভাগে আমি এই কথা বলিয়াছি, যে, ব্ৰহ্মের প্রকাশ সর্বত্রই পরিপূর্ণ- কেবল মানবের ইচ্ছার মধ্যে তিনি আপনাকে সম্পূর্ণ করেন নাই, কারণ তাহা হইলে ইচ্ছার ধর্মই লোপ হইত। ‘ই’ ও ‘না দুই না থাকিলে ইচ্ছা! থাকিতেই পারে না । যেখানে ‘না’ বলিবার সম্ভাবনামাত্র নাই, একেবারেই “হা, সেখানে অন্ধ শাসন ; সেখানে প্ৰেম নাই, ইচ্ছা নাই । যেমন জড় প্রকৃতি- সেখানে যাহা না ঘটিলে নয় তাহাই ঘটিতেছে ; অতএব সেখানে ঈশ্বরের নিয়ম প্ৰকাশ পাইতেছে, প্ৰেম প্ৰকাশ পাইতেছে না । প্ৰেম প্ৰেমকে চায়, ইচ্ছা ইচ্ছাকে চায় । আমাদের ইচ্ছার মধ্যে “নাকে বিপর্যন্ত করিয়া দিয়া যখন তিনি "ইকে জয় করেন তখনই আমাদের ইচ্ছার মধ্যে র্তাহার ইচ্ছা প্ৰকাশ পায় । আমরা নিজে ইচ্ছা করিয়া যখন তাহার ইচ্ছাকে স্বীকার করি তখনই ইচ্ছার সঙ্গে ইচ্ছার মিলন হয় । সুতরাং ইহার জন্য র্তাহাকে অপেক্ষা করিতে হয় । একসময় আমাদের যে প্রেম তাহাকে চায় নাই, কেবল বিষয়ের রাজ্যে ঘুরিয়াছিল, সেই প্ৰেম যখন তাহাকে চায়। তখন তাহার চাওয়ার সঙ্গে আমার চাওয়ার মিলন হয় ; তখনই আমার প্ৰেম তাহার প্রেমকে উপলব্ধি করে এবং চতুদিকে প্রকাশ করে । অতএব মানবাত্মার ইচ্ছার মধ্যে পরমাত্মার ইচ্ছার পূর্ণ প্ৰকাশ জগতে আর কোথাও দেখিতে পাই না, কেবল ভক্তের জীবনে দেখি। এ পর্যন্ত মানব-ইতিহাসে জ্ঞানে প্রেমে ও কর্মে পরিপূর্ণমাত্রায় পরমাত্মার ইচ্ছার সঙ্গে জীবাত্মার ইচ্ছার একান্ত