পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৯ আশ্বিন ১৩৩৫ মহুয়া কোন টানে জানা হতে অজানায় চলে আধো হাসি আধো অশ্রািজলে । ঘর ছেড়ে দিয়ে তবে ঘরখানি পেতে হয় তারে অচেনার ধারে । ওপারের গ্রাম দেখো আছে। ওই চেয়ে, বেলা ফুরাবার আগে চলো তরী বেয়ে, ওই ঘাটে কত বধু কত শত বর্ষবর্ষ ধরি ভিড়ায়েছে ভাগ্যভীরু তরী । জনে জনে রচি গোল কালের কাহিনী, অনিত্যের নিত্যপ্রবাহিণী । জীবনের ইতিবৃত্তে নামহীন কর্ম-উপহার রেখে গেল তার । আপনার প্রাণসূত্রে যুগ যুগান্তর গেঁথে গেথে চলে গেল না। রাখি স্বাক্ষর, ব্যথা যদি পেয়ে থাকে না রহিল কোনো তার ক্ষত, লভিল মৃত্যুর সদাব্রত । তাই আজি গোধূলির নিস্তব্ধ আকাশ পথে তব বিছালো আশ্বাস । কহিল সে কানে কানে, প্ৰাণ দিয়ে ভরা যার বুক সেই তার সুখ । রয়েছে কঠোর দুঃখ রয়েছে বিচ্ছেদ, তবু দিন পূর্ণ হবে, রহিবে না খেদ যদি বলে যাও বন্ধু, ‘আলো দিয়ে জ্বেলেছিনু আলো, সব দিয়ে বেসেছিনু ভালো ।” পরিণয় শুভখন আসে। সহসা আলোক জ্বেলে, মিলনের সুধা পরম ভাগ্যে মেলে । একার ভিতরে একের দেখা না পাই, দুজনার যোগে পরম একের ঠাই, সে একের মাঝে আপনারে খুঁজে পেলে । আপনার দান সেই তো চরম দান, আকাশে আকাশে তারি লাগি আহবান । ফুলবনে তাই রূপের তুফান লাগে, নিশীথে তারায় আলোর ধেয়ান জাগে, উদয়সূর্য গাহে জাগরণী গান । Ves