পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ao রবীন্দ্ৰ-রচনাবলী নীরবে গোপনে মর্তভুবন-’পরে অমরাবতীর সুর-সুরধুনী ঝরে । নিজেরে জানিলে সীমার-বাধন-হারা, স্বগের দীপ জ্বলিল মাটির ঘরে । চিরসুন্দরে মজুক তোমার চোখ । প্রেমের শান্তি চিরশাস্তির বাণী সংসারে তব নামুক অমৃতলোক । আশ্বিন ? ১৩৩৫ মিলন সৃষ্টির প্রাঙ্গণে দেখি বসন্তে অরণ্যে ফুলে ফুলে দুটিরে মিলানো নিয়ে খেলা । রেণুলিপি বহি বায়ু প্রশ্ন করে মুকুলে মুকুলে কবে হবে ফুটিবার বেলা । তাই নিয়ে বর্ণচছটা, চঞ্চলতা শাখায় শাখায়, পাখির সংগীত-সাথে বন হতে বানান্তরে ধায় উচ্ছসিত উৎসবের মেলা । সৃষ্টির সে রঙ্গ আজি দেখি মানবের লোকালয়ে দুজনায় গ্ৰন্থির বাধন । অপুর্ব জীবন তাহে জাগিবে বিচিত্র রূপ লয়ে বিধাতার আপনি সাধন । ছেড়েছে সকল কাজ, রঙিন বসনে ওরা সোজে চলেছে প্ৰান্তর বেয়ে, পথে পথে বাশি চলে বেজে, পুরানো সংসার হতে জীৰ্ণতার সব চিহ্ন মেজে রচিল নবীন আচ্ছাদন । যাহা সবচেয়ে সত্য সবচেয়ে খেলা যেন তাই, যেন সে ফান্ধনকলোল্লাস । যেন তাহ নিঃসংশয়, মর্তের জানতা যেন নাই, দেবতার যেন সে উচ্ছস । সহজে মিশেছে তাই আত্মভোলা মানুষের সনে আকাশের আলো আজি গোধূলির রক্তিম লগানে, বিশ্বের রহস্যলীলা মানুষের উৎসব প্রাঙ্গণে লভিয়াছে আপনি প্ৰকাশ ।