প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨૬ রবীন্দ্র-রচনাবলী মানবপুত্র মৃত্যুর পাত্রে খৃস্ট যেদিন মৃত্যুহীন প্রাণ উৎসর্গ করলেন রবাহত অনাহূতের জন্যে তার পরে কেটে গেছে বহু শত বৎসর । আজ তিনি একবার নেমে এলেন নিত্যধাম থেকে মর্তধামে । 峰 চেয়ে দেখলেন, সেকালেও মানুষ ক্ষতবিক্ষত হত যে-সমস্ত পাপের মারে— যে উদ্ধত শেল ও শল্য, যে চতুর ছোরা ও ছুরি, যে ক্রুর কুটিল তলোয়ারের আঘাতে— বিদ্যুদবেগে আজ তাদের ফলায় শান দেওয়া হচ্ছে হিসহিস শব্দে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে বড়ো বড়ে মসীধুমকেতন কারখানাঘরে । কিন্তু দারুণতম যে মৃত্যুবাণ নূতন তৈরি হল, ঝকঝক করে উঠল নরঘাতকের হাতে, পূজারি তাতে লাগিয়েছে তারই নামের ছাপ তীক্ষ্ণ নখে আঁচড় দিয়ে । খৃস্ট বুকে হাত চেপে ধরলেন ; বুঝলেন শেষ হয় নি তার নিরবচ্ছিন্ন মৃত্যুর মুহূর্ত, নূতন শূল তৈরি হচ্ছে বিজ্ঞানশালায়— বিধছে তার গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে । সেদিন তাকে মেরেছিল যারা ধর্মমন্দিরের ছায়ায় দাড়িয়ে, তারাই আজ নূতন জন্ম নিল দলে দলে, তারাই আজ ধর্মমন্দিরের বেদির সামনে থেকে } পূজামস্ত্রের স্বরে ডাকছে ঘাতক সৈন্তকে— বলছে ‘মারো মারো’ । মানবপুত্র যন্ত্রণায় বলে উঠলেন উর্ধ্বে চেয়ে, ‘হে ঈশ্বর, হে মানুষের ঈশ্বর, কেন অামাকে ত্যাগ করলে |’ [ শ্রাবণ ১৩৩৯ ] 酸