প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৩২ রবীন্দ্র-রচনাবলী কুমোরের চাকা ঘুরছে গুঞ্জনস্বরে, কাঠুরিয়া হাটে আনছে কাঠের ভার, রাখাল ধেনু নিয়ে চলেছে মাঠে, বধুরা নদী থেকে ঘট ভরে যায় ছায়াপথ দিয়ে। কিন্তু কোথায় রাজার দুর্গ, সোনার খনি, মারণ-উচাটন-মন্ত্রের পুরাতন পুথি ? জ্যোতিষী বললে, নক্ষত্রের ইঙ্গিতে ভুল হতে পারে না, তাদের সংকেত এইখানেই এসে থেমেছে। এই বলে ভক্তিনম্রশিরে পথপ্রান্তে একটি উৎসের কাছে গিয়ে সে দাড়ালে৷ সেই উৎস থেকে জলস্রোত উঠছে যেন তরল আলোক, প্রভাত যেন হাসি-অশ্রুর গলিত মিলিত গীতধারায় সমুচ্ছল। নিকটে তালীকুঞ্জতলে একটি পর্ণকুটির অনির্বচনীয় স্তব্ধতায় পরিবেষ্টিত । দ্বারে অপরিচিত সিন্ধুতীরের কবি গান গেয়ে বলছে, মাত, দ্বার খোলো । So প্রভাতের একটি রবিরশ্মি রুদ্ধদ্বারের নিম্নপ্রান্তে তির্যক হয়ে পড়েছে । সম্মিলিত জনসংঘ আপন নাড়ীতে নাড়ীতে যেন শুনতে পেলে স্বষ্টির সেই প্রথম পরমবাণী, মাতা, দ্বার খোলে । দ্বার খুলে গেল। 駒 মা বসে আছেন তৃণশয্যায়, কোলে তার শিশু, উষার কোলে যেন শুকতারা । দ্বারপ্রান্তে প্রতীক্ষাপরায়ণ স্বর্যরশ্মি শিশুর মাথায় এসে পড়ল। কবি দিলে আপন বীণার তারে ঝংকার, গান উঠল আকাশে : . জয় হোক মানুষের, ওই নবজাতকের, ওই চিরজীবিতের । সকলে জাম্ব পেতে বসল, রাজা এবং ভিক্ষু,সাধু এবং পাপী, জ্ঞানী এবং মৃঢ় ; উচ্চস্বরে ঘোষণা করলে ; জয় হোক মানুষের, ওই নবজাতকের, ওই চিরজীবিতের । [ শ্রাবণ ১৩৩৮ ]