প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুনশ্চ শাপমোচন গন্ধৰ্ব সৌরসেন স্বরলোকের সংগীতসভায় r কলানায়কদের অগ্রণী । সেদিন তার প্রেয়সী মধুত্র গেছে স্বমেরুশিখরে সূর্যপ্রদক্ষিণে । সৌরসেনের মন ছিল উদাসী। অনবধানে তার মৃদঙ্গের তাল গেল কেটে, উর্বশীর নাচে শমে পড়ল বাধা, ইন্দ্রাণীর কপোল উঠল রাঙা হয়ে । স্থলিতছন্দ সুরসভার অভিশাপে গন্ধৰ্বের দেহশ্ৰী বিকৃত হয়ে গেল, অরুণেশ্বর নাম নিয়ে তার জন্ম হল গান্ধাররাজগৃহে । মধুত্র ইন্দ্রাণীর পাদপীঠে মাথা রেখে পড়ে রইল ; বললে, ‘বিচ্ছেদ ঘটিয়ে না, একই লোকে আমাদের গতি হোক, একই দুঃখভোগে, একই অবমাননায় । শচী সকরুণ দৃষ্টিতে ইন্দ্রের পানে তাকালেন। ইন্দ্র বললেন, ‘তথাস্তু, যাও মর্তে— সেখানে দুঃখ পাবে, দুঃখ দেবে। সেই দুঃখে ছন্দঃপাতন-অপরাধের ক্ষয়।’ মধুত্র জন্ম নিল মন্দ্ররাজকুলে, নাম নিল কমলিকা। একদিন গান্ধারপতির চোখে পড়ল মন্দ্ররাজকন্যার ছবি। সেই ছবি তার দিনের চিন্তা তার রাত্রের স্বপ্নের পরে আপন ভূমিকা রচনা করলে । গান্ধারের দূত এল মদ্ররাজধানীতে । বিবাহপ্রস্তাব শুনে রাজা বললে, ‘আমার কন্যার দুর্লভ ভাগ্য ।