প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


. পুনশ্চ | ১৩৫ রাজা বললে, ‘কাল চৈত্রসংক্রান্তি । ۔raپنجيلي নাগকেশরের বনে নিভৃতে সখাদের সঙ্গে আমার নৃত্যের দিন । প্রাসাদশিখর থেকে চেয়ে দেখে ? মহিষীর দীর্ঘনিশ্বাস পড়ল ; বললে, “চিনব কী করে।’ রাজা বললে, যেমন খুশি কল্পনা করে নিয়ে, সেই কল্পনাই হবে সত্য।’ চৈত্রসংক্রাস্তির রাত্রে আবার মিলন । মহিষী বললে, ‘দেখলাম নাচ । যেন মঞ্জরিত শালতরুশ্রেণীতে বসন্তবাতাসের মত্ততা । সকলেই সুন্দর, যেন ওরা চন্দ্রলোকের শুক্লপক্ষের মাতুষ । কেবল একজন কুত্ৰ কেন রসভঙ্গ করলে, ও যেন রাহুর অনুচর। ওখানে কী গুণে সে পেল প্রবেশের অধিকার । রাজা স্তব্ধ হয়ে রইল। কিছু পরে বললে, “ওই কুন্ত্রর পরম বেদনাতেই তো সুন্দরের আহবান। কালে মেঘের লজ্জাকে সাত্বনা দিতেই সূর্যরশ্মি তার ললাটে পরায় ইন্দ্ৰধনু, মরুনীরস কালো মর্তের অভিশাপের উপর স্বর্গের করুণা যখন রূপ ধরে তখনই তো শু্যামলসুন্দরের আবির্ভাব । প্রিয়তমে, সেই করুণাই কি তোমার হৃদয়কে কাল মধুর করে নি। ‘না মহারাজ, না বলে মহিষী দুই হাতে মুখ ঢাকলে । রাজার কণ্ঠের সুরে অশ্রুর ছোওয়া লাগল ; বললে, ‘যাকে দয়া করলে হৃদয় তোমার ভরে উঠত তাকে ঘৃণা ক’রে মনকে কেন পাথর করলে |’ ‘রসবিকৃতির পীড়া সইতে পারি নে? এই বলে মহিষী আসন থেকে উঠে পড়ল । রাজা তার হাত ধরলে ; বললে, ‘একদিন সইতে পারবে আপনারই আন্তরিক রসের দাক্ষিণ্যে— কুন্ত্রীর আত্মত্যাগে সুন্দরের সার্থকতা।’